গরমে সতর্ক থাকুন চাষিরা

গ্রীষ্মের তাপদাহে জ্বলছে বাংলা। ঝলসে দেওয়া শুকনো বাতাসের আঁচ সহনসীমা ছাড়াচ্ছে। বাইরের তাপ শরীরের ভিতরে পৌঁছনোর পাশাপাশি শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত পরিমাণ জল ও নানা প্রয়োজনীয় মৌল। শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে মস্তিস্কের তাপ নিয়ন্ত্রণকারী কেন্দ্র কিছুক্ষণের জন্য হঠাৎই বিকল হয়ে যেতে পারে। তখন ভিতরের তাপ বাইরে বেরোতে পারে না। ঘাম দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমন হলে সাবধান। হতে পারে হিট স্ট্রোক। এর আরও কিছু উপসর্গ— বমি বমি ভাব থাকলেও বমি হয় না, চলাফেরার ক্ষমতা লোপ পায়, হৃৎপিণ্ডের ধুকধুকানি বাড়ে, চামড়ার রং লালচে হয়, ঝিমুনি আসে। হিট স্ট্রোক এড়াতে সাবধান হন আগেই। লিখছেন কৌশিক ব্রহ্মচারীপ্রথমেই চেষ্টা করুন, সরাসরি সূর্যের তাপ যতটা এড়ানো যায়। এর জন্য সকাল-সকাল মাঠের কাজ সেরে নেওয়া ভাল। বেলা ১০-১১টার মধ্যে ফিরে আসুন বাড়ি। দুপুরে খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিন। রোদ পড়ে গেলে বিকেলবেলা আবার যেতে পারেন মাঠে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৪০
Share:

প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে। ডোমকলে সাফিউল্লা ইসলামের তোলা ছবি।

• প্রথমেই চেষ্টা করুন, সরাসরি সূর্যের তাপ যতটা এড়ানো যায়। এর জন্য সকাল-সকাল মাঠের কাজ সেরে নেওয়া ভাল। বেলা ১০-১১টার মধ্যে ফিরে আসুন বাড়ি। দুপুরে খেয়েদেয়ে বিশ্রাম নিন। রোদ পড়ে গেলে বিকেলবেলা আবার যেতে পারেন মাঠে। কিন্তু দুপুরে কড়া রোদে খাঁ-খাঁ মাঠে না থাকাই ভাল।

Advertisement

• গরমে এমনিতেও খেতে ইচ্ছে করে না। আর বেশি না খাওয়াই ভাল এই সময়। কারণ যত বেশি খাবেন, সেটা হজম করতে তত বেশি গরম হবে (মেটাবলিক হিট) শরীর। বিশেষ করে প্রোটিন মানে মাছ-মাংস-ডিম একটু কম খাওয়াই ভাল। গ্রামবাংলায় চল আছে, সকালে পান্তাভাত খেয়ে কাজে বেরনো। এটা ভাল। শরীর ঠান্ডা থাকে। কাজেও শক্তি পাওয়া যায়। সঙ্গে লঙ্কা-পেঁয়াজ। লঙ্কার ঝাল ঘাম বাড়ায়। ঘাম দিলে শরীর ঠান্ডা হয়।

Advertisement

• খালি গায়ে কাজে বেরোবেন না। হালকা সুতির পোশাক কিছু যেন থাকে গায়ে। ত্বকে সরাসরি রোদ লাগা ভাল নয়।

Advertisement

• একই কারণে রোদের মধ্যে কাজ করার সময় মাথায় অবশ্যই টোকা, টুপি বা গামছা জাতীয় কিছু পাগড়ির মতো বেঁধে রাখবেন।

• অবশ্যই জলের বোতল নিয়ে যাবেন মাঠে। প্রচুর জল খেতে হবে। বারেবারে খেতে হবে। তৃষ্ণা না পেলেও একটু সময় ছাড়া-ছাড়া জল ঢালবেন গলায়। রাস্তাঘাটে বিক্রি হওয়া কাঁচা বরফ বা কাঠি আইসক্রিম একেবারে নয়। রাস্তার ধারে শরবতও নয়। বাড়ি ফিরে নুন-লেবুর জল।

• গরমে কাজ করতে-করতে শরীর খারাপ লাগলে ছায়ায় গিয়ে বিশ্রাম নিন। হাতের কব্জি জলের ধারার নীচে রাখলে বা একটু জল দিলে আরাম লাগবে। মুখে জলের ঝাপটা দিলেও আরাম হয়। ঘাড়ে জল দিলেও ভাল লাগে। ঘাড়ে ভেজা গামছা দিয়ে থাকুন কিছুক্ষণ।

• বাড়িতে ফিরে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে ভাল করে স্নান করুন। শরীর ঠান্ডা হবে। লোমকূপ মুক্ত রাখতে তেল-পাওডার কম মাখুন। দিনে দু’বার স্নান করলে ভাল।

• মদ্যপান আরও ডিহাইড্রেট করে দেয়। চা-কফিও কম খান।

লেখক: বিধানচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement