Parivartan Yatra

‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরুর আগে ‘ঐক‍্যবদ্ধ’ ছবি তুলে ধরার চেষ্টায় পদ্ম! কর্মসূচি সফল করতে যৌথ আহ্বান শমীক-শুভেন্দু-সুকান্তের

এই তিন নেতাকে আগে কখনও একসঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়নি, এমন নয়। সাংগঠনিক সম্মেলন বা পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নড্ডার স্তরের নেতাদের কর্মসূচিতে এঁরা আগেও এক মঞ্চে এসেছেন। কিন্তু সে সব মঞ্চে এঁরা প্রধান চরিত্র ছিলেন না।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৮
Share:

সাংবাদিক বৈঠকে (বাঁ দিক থেকে) শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদার। শুক্রবার কলকাতায়। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ‍্য জুড়ে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু রবিবার। পর পর দু’দিনে সর্বভারতীয় পরিচিতির ন’জন ‘ওজনদার’ নেতা-মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন রাজ‍্যের ন’টি প্রান্ত থেকে ‘যাত্রা’র উদ্বোধন করতে। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ইতিহাসে এমন কর্মসূচি বেনজির। সেই কর্মসূচির আগে দলের ‘ঐক্যবদ্ধ’ ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। দলের রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন রাজ‍্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শুক্রবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করলেন, যে ছবি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিতে খানিক বিরলই।

Advertisement

‘পরিবর্তন যাত্রা’ সম্পর্কে শমীক, শুভেন্দু বা সুকান্ত বৃহস্পতিবার যা বললেন, তাতে নতুন কিছু ছিল না। এই ‘যাত্রা’-র অধীনে কী কী কর্মসূচি থাকছে, সে সব বিজেপির তরফে আগেই বিশদে জানানো হয়েছিল। রাজ্যে ‘অপশাসন’ সংক্রান্ত কোন কোন বিষয়ের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, তা বিজেপি নেতারা একাধিক বার বলেছিলেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপি কী ভাবে তৃণমূলকে সরাতে ‘ইচ্ছুক’ রাজ‍্যবাসীর মনোবল বাড়াতে চায়, সে কথাও আগেই বলা হয়েছিল। শুক্রবার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি প্রেক্ষাগৃহে শমীক, শুভেন্দু, সুকান্ত সেই পুরনো কথাগুলিই আরও একবার ভাগে ভাগে বললেন। কিন্তু যা নতুন, তা হল রাজ‍্য বিজেপির এই তিন শীর্ষনেতার একমঞ্চে আসা। রাজ‍্যজোড়া জনসংযোগ কর্মসূচি শুরুর দেড় দিন আগে এই ছবি গোটা রাজ্যেই বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়াবে বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন।

প্রসঙ্গত, এই তিন নেতাকে আগে কখনও একসঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়নি, এমন নয়। সাংগঠনিক সম্মেলন বা পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নড্ডার স্তরের নেতাদের কর্মসূচিতে এঁরা আগেও এক মঞ্চে এসেছেন। কিন্তু সে সব মঞ্চে এঁরা প্রধান চরিত্র ছিলেন না। বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রচার কর্মসূচি শুরু করার আগে রাজ‍্য বিজেপির এই তিন মুখকেই প্রধান চরিত্র হিসাবে একমঞ্চে নিয়ে আসা হল। ‘গোষ্ঠী’ ভুলে ‘ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার বার্তা চারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হল সংগঠনের সব স্তরে।

Advertisement

‘পরিবর্তন যাত্রা’র থিম-গানের ধাঁচে একটি ‘টিজ়ার’ এবং একটি ‘ভিডিয়ো বার্তা’-ও শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াটসঅ‍্যাপ এবং সমাজমাধ‍্যমে সেই ভিডিয়োগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য বিজেপির। শমীক জানিয়েছেন, বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘যাত্রা’ হচ্ছে না বলে ওই এলাকায় ট‍্যাবলো বার করা হবে এবং ছোট ছোট পথসভা ও মিছিলের মাধ‍্যমে ‘যাত্রা’র অন্তিম পর্ব অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। প্রসঙ্গত, কলকাতা মহানগর বিভাগের উপরেই ব্রিগেড সমাবেশ আয়োজনের মূল দায়িত্ব বর্তাচ্ছে বলে এই এলাকায় আলাদা করে ‘যাত্রা’ আয়েজন করা হচ্ছে না।

আদালতের নির্দেশ

বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবারেই একটি নির্দেশ দিয়েছে। ‘যাত্রা’ নির্বিঘ্নে হওয়া নিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সন্দিহান ছিলেন বলে তাঁরা নিজেরাই আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত ওই কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিলেও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। তার মধ্যে অন‍্যতম হল, জমায়েত ১,০০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কিন্তু বিজেপি এই কর্মসূচির উদ্বোধনেই ন’টি বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। পরিসমাপ্তিতে আরও বড় সমাবেশ ব্রিগেডে। আর যাত্রাপথে ৬৪টি ‘বড় সভা’ হবে বলে শমীক শুক্রবারেও জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশ পালিত হবে কী ভাবে? বড় বড় জনসভাগুলিকে মাত্র ১,০০০ জনের জমায়েতে বেঁধে রাখা কি সম্ভব? শমীকের জবাব, ‘‘আমরা আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। এমনিতেই যে কোনও কর্মসূচির অনুমতি পেতে বিরোধী দলনেতাকে বার বার আদালতেই যেতে হয়। আদালতের নির্দেশ মেনেই আমরা সব করি। এ ক্ষেত্রেও নির্দেশ মেনেই পরিবর্তন যাত্রা হবে।’‍’ এর পাশাপাশিই শমীকের সংযোজন, ‘‘মানুষ যদি ভালবেসে নিজে থেকে কাছে চলে আসেন, তা হলে তো আমাদের কিছু করার নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement