নকশালবাড়িতে জয়ী এসএফআই

নকশালবাড়ি কলেজের ছাত্র সংসদ নিজেদের দখলে রাখল এসএফআই। ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে প্রার্থী দিয়েছিল এসএফআই। শনিবার নির্বাচনে ১৭টি আসনেই তারা জয়ী হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ ০১:০৪
Share:

জয়ের পরে এসএফআই-এর উচ্ছ্বাস নকশালবাড়ি কলেজে। — নিজস্ব চিত্র

নকশালবাড়ি কলেজের ছাত্র সংসদ নিজেদের দখলে রাখল এসএফআই। ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে প্রার্থী দিয়েছিল এসএফআই। শনিবার নির্বাচনে ১৭টি আসনেই তারা জয়ী হয়েছে।

Advertisement

বাকি আসনগুলির মধ্যে একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে টিএমসিপি। ৪টি আসনে আবার টিএমসিপি’রই একাধিক প্রার্থী ছিল। তাই ওই আসনগুলিতেও নির্বাচন হয়। টিএমসিপি’র প্রার্থীরাই ওই আসনগুলি পেয়েছে। অন্য দিকে বাগডোগরা কলেজ এবং শিলিগুড়ি কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে জয়ী হয়েছে টিএমসিপি।

এ দিন জয়ের খবর পাওয়ার পরই নকশালবাড়িতে যান শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নকশালবাড়ি কলেজে এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ। অধিকাংশ কলেজেই বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন তুলতে এবং জমা করতে দেয়নি শাসক দলের লোকেরা। যেখানে সঠিক নির্বাচন হবে সেখানেই শাসক দলের মুখোশ খুলে যাবে।’’

Advertisement

এ দিকে যে সমস্ত আসনে বিরোধীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে সেখানে টিএমসিপি’র প্রার্থীরা একটিতেও জিততে না-পারায় ব্লকের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

টিএমসিপি’র জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় বলেন, ‘‘নকশালবাড়ি কলেজে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। সেখানে সংগঠন ঠিক করতে নজর দেওয়া হবে। তবে শিলিগুড়ি কলেজে সব কটি আসনে এবং বাগডোগরা কলেজে আমরা জিতেছি।’’ এসএফআই-এর দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সৌরভ দাস বলেন, ‘‘সে ক’টি আসনে আমরা প্রার্থী দিয়েছিলাম সব ক’টিতেই জিতেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অন্য কলেজগুলিতেও ফল যে অন্য হতে পারত নকশালবাড়ি কলেজ তার প্রমাণ।’’

শনিবার নির্বাচনকে ঘিরে নকশালবাড়ি কলেজে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি ভোটার এবং প্রার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল ইন্টারনেট সংযোগ। বেলা ১১টা থেকে পরিচয় পত্র দেখে তবেই ক্যাম্পাসে ভোটারদের ঢোকানো হয়। আগাগোড়া ক্যাম্পাসে ছিলেন বিডিও কিংশুক মাইতি। এর আগে মনোনয়ন তোলা এবং জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নকশালবাড়ি কলেজে টিএমসিপি এবং এসএফআই-এর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসও ছুঁড়তে হয়েছিল।

বাগডোগরা কলেজে ৪৮ টি আসনের মধ্যে ২৩ টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় টিএমসিপি। এ দিন ২৫টি আসনে ভোট হয়। তার মধ্যে ২২টিতে টিএমসিপি প্রার্থীরা জিতেছে বলে দাবি। তিনটিতে জিতেছে বিরোধীরা। শিলিগুড়ি কলেজে ৫৪টি আসনের মধ্যে ১১ টিতে ছাত্র পরিষদ এবং ৮ আসনে এসএফআই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিল। বাকি আসনগুলিতে টিএমসিপি’র বিভিন্ন গোষ্ঠীর একাধিক প্রার্থী ছিল। তবে একে গোষ্ঠী বিরোধ বলে মানতে নারাজ টিএমসিপি। সংগঠনের জেলা সভাপতির দাবি, কিছু আসনে বাড়তি মনোনয়ন পত্র জমা করা হয়েছিল। সময় মতো তা প্রত্যাহার করা যায়নি বলে নির্বাচন হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement