Shantanu Sen TMC

শুভেন্দুর সরকারকে আরজি কর তদন্তে যে কোনও সহযোগিতায় প্রস্তুত! মুখ খুললেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন

কিছু দিন আগেই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন শান্তনু। ফের তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেললেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ২২:০০
Share:

(বাঁ দিকে) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং হাসপাতালের সার্বিক দুর্নীতি নিয়ে ফের মুখ খুললেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। আরজি কর আন্দোলন পর্বেও তিনি এ বিষয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁকে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে সমর্থন করতে এবং ‘রাতদখল’ কর্মসূচিতে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর শান্তনু জানিয়ে দিলেন, নতুন সরকারকে ওই সংক্রান্ত যে কোনও তদন্তে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

Advertisement

কিছু দিন আগেই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে অভিনন্দন এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন শান্তনু। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি ও ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হিসাবে বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তখনই তাঁর পোস্ট তৃণমূলকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। বুধবার আর রাখঢাক না-করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শান্তনু। অভিযোগ, আরজি কর পর্বে মুখ খোলার জন্য তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। তাঁর রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করে দেওয়া হয়। মেয়ের মুখ চেয়ে তাই সে সময় চুপ করে গিয়েছিলেন, দাবি শান্তনুর।

তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু বুধবার বলেছেন, ‘‘চিকিৎসক এসপি দাসের নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গ লবির কাণ্ডারি সুদীপ্ত রায়, সুশান্ত রায়, সন্দীপ ঘোষ, অভীক দে, বিরুপাক্ষ বিশ্বাস, সৌরভ পালদের মাধ্যমে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, রিক্রুটমেন্ট বোর্ড-সহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ এবং পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির যে আখড়া হয়েছিল, আমি তার বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খুলেছিলাম। তৎকালীন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসাবে আরজি করের সমস্ত দুর্নীতি তথ্যপ্রমাণ-সহ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিচারের বদলে আমাকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’’

Advertisement

আরজি কর পর্বে শান্তনুর সঙ্গে তৃণমূলের সমীকরণ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। তিনি দলের মুখপাত্রের পদ হারিয়েছিলেন তখনই। এর কয়েক মাসের মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে শান্তনুকে সাসপেন্ড করে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। কত দিনের জন্য সাসপেন্ড, তা উল্লেখ করা হয়নি। পরে তাঁকে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় কর্মসূচিতে দেখা যায়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন তৃণমূলের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শান্তনুর সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। আবার তিনি দলের মুখপাত্র পদে বহাল হয়েছিলেন। কিন্তু ভোটে দলের ভরাডুবির পর ফের তিনি ‘বেসুরো’।

আরজি করের ঘটনার কথা উল্লেখ করে শান্তনু বলেছেন, ‘‘কিছু নির্মম সত্যি কথা বলার জন্য আমাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। আমার একমাত্র মেয়ে, যে আরজি করের ছাত্রী ছিল, তার উপর সাংঘাতিক মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আমার চিকিৎসক কাউন্সিলর স্ত্রীর উপর অত্যাচার হয়েছে। অনার্স পাওয়ার পরেও আমার মেয়েকে ফেল করানোর চেষ্টা হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছিল আর কিছু বললে আমার মেয়ে কী ভাবে ডাক্তার হয়, তারা দেখে নেবে। তাই বাবা হিসাবে মেয়ের কথা ভেবে আমাকে চুপ করে যেতে হয়েছিল।’’

শান্তনুর দাবি, তাঁর বৈধ ফেলোশিপকে জোর করে অবৈধ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। বাতিল করা হয়েছিল চিকিৎসক হিসাবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা প্রমাণ করে দিয়েছিল ওরা কতটা হিংস্র হতে পারে।’’ এর পরেই বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শান্তনুর বক্তব্য, ‘‘বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আরজি করের দুর্নীতি এবং ধর্ষণ-খুনের তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। আমি সাধুবাদ জানাই। প্রয়োজনে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement