শীতের সময়ে আড়াইশো গ্রাম রাইয়ের আঁটি বিক্রি হয় দু’তিন টাকায়, পালং তিন-চার টাকায়, ধনেপাতা দু’টাকায়।
আর বর্ষায়? একই পরিমাণ রাইয়ের দাম ১০ টাকা, পালং ১২-১৫ টাকা এবং ধনেপাতা পাঁচ টাকা।
অসময়ের চাষে লাভ প্রচুর। তাই শিলিগুড়ির গ্রামাঞ্চলে অসময়ে সব্জি চাষে ক্রমশই উৎসাহ বাড়ছে চাষিদের। কৃষি দফতর থেকেও তাঁদের সাহায্য করা হচ্ছে। পালং, ধনেপাতা মূলত শীতের সময়ের সব্জি হওয়ায় বর্ষার মরসুমে চাষের জন্য চাই প্রশিক্ষণ। না জেনে চাষ করলে লাভের বদলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে ষোলো আনা। তাই কৃষি কর্তাদের পরামর্শ, জেলা বা ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করে হাত দিন চােষ। ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যেই তা বিক্রয়যোগ্য হবে।
বর্ষার চাষে কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যেমন জমি শোধনের পর প্লাস্টিক দিয়ে মশারির মতো আচ্ছাদন তৈরি করতে হবে। বর্ষার বৃষ্টির জল প্রয়োজন হলেও তা যেন সরাসরি গাছে না পড়ে। তাহলে পাতা পচে যেতে পারে। ওই আচ্ছাদনের বাইরে থেকে জল চুঁইয়ে ভিতরে ঢোকা দরকার। তেমনই রোদ উঠলে আচ্ছাদন খুলে রোদ ও বাতাস লাগানো প্রয়োজন। তাহলেই পাতা পুষ্ট হয়ে উঠবে।
আচ্ছাদন তৈরি করার আগে অবশ্য জমি শোধন করতে হবে। তিন পদ্ধতিতে তা করা যায়। এক, জমিকে পলিথিন বা প্লাস্টিকে ঢেকে রাখতে হবে সাত দিন। যে উত্তাপ তৈরি হবে তাতে মাটির ক্ষতিকর জীবাণু মরে যাবে। দুই, জীবাণুনাশক রাসায়নিক দিতে হবে মাটিতে। দিন দশেক পরে মাটি কুপিয়ে গ্যাস বার করে দিতে হবে। আর তিন, জৈব জীবাণুনাশক ছত্রাকের বীজ ছড়িয়ে মাটির ক্ষতিকর জীবাণু নাশ করা যায়।
শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া ব্লকের একাধিক জায়গায় অসময়ের সব্জি চাষ হচ্ছে। ফকিরগছের হবিব মিয়াঁ বলেন, ‘‘গত কয়েক বছরে বর্ষায় পালং, ধনে ও রাইশাক চাষ করছি। এখনও পর্যন্ত লাভই হয়েছে।’’ লাভ যা থাকে তাতে শীতের সব্জি চাষের জন্য খরচ রেখেও উদ্বৃত্ত থাকে জানান খুট্টামারির চাষি রফিক মণ্ডল।
শিলিগুড়ি মহকুমার কৃষি আধিকারিক মেহফুজ আলম জানান, বাজার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এখানে উৎপন্ন শাক শিলিগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুর, কলকাতার বাজারেও পাঠানো হচ্ছে।
সুযোগ-সুবিধা
• দশ বছরের পুরনো প্রজাতির ধান চাষ করলে লাভবান হতে পারবেন না চাষিরা। তাই তাঁদের নতুন প্রজাতির ধান চাষের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি দফতর। কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকে ৫০০ হেক্টর জমি নিয়ে নতুন প্রজাতির ধান চাষ করা হচ্ছে দফতরের উদ্যোগে। কোচবিহার ১ ব্লকের কৃষি আধিকারিক রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনী করে তা চাষিদের সামনে তুলে ধরছি।”
• হ্যাচারি তৈরি-সহ মাছ চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে কোচবিহারে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ৪০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। এক সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে তাঁদের মাছ চাষের জন্য প্রকল্প অনুসারে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য দফতরের কোচবিহার জেলা আধিকারিক অলোক প্রহরাজ।
• আগামী ২ ও ৩ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুরের কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক থেকে শুরু করে ব্লক, মহকুমা কৃষি আধিকারিকদের অত্যাধুনিক ট্যাব দেওয়া হবে। ৪ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই সব ট্যাব কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহার হবে। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে এই প্রশিক্ষণ শিবির হবে ১৩-১৫ জুলাই ।
• স্বাস্থ্যসম্মত তাপনিরোধক মাছ সংরক্ষণের বাক্স বিলি হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা মৎস্য দফতরে। ৫০-৬০ কেজি মাছ তিন দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে এই বাক্সে।
• কালনা ১ ব্লকের বেগপুর সমবায় সমিতি সম্প্রতি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে ট্রাক্টর, রোটাভেটর, ব্যাটারি চালিত স্প্রে মেশিন-সহ বেশ কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি কিনেছে। আমন চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সব যন্ত্রপাতি স্বল্প ভাড়ায় সমবায় থেকে মিলবে।
• মুশির্দাবাদ জেলা কৃষি দফতর জুন ও জুলাই মাস ধরে জেলার ২৬টি ব্লকে ধানের বীজ-সহ নানান কৃষি সহায়ক দ্রব্য যেমন, আগাছা নাশক, জৈব রাসায়নিক সার কৃষকদের বিলি করবে।