(বাঁ দিকে) সিইও দফতরের বাইরে বামেদের ধর্না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
রবিবার রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তার ৭২ ঘণ্টা আগে কমিশনকে নিশানা করে বিজেপি ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব পক্ষই পথে নেমে পড়ল বা নামার অপেক্ষায়। বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের দফতরের বাইরে ধর্না, অবস্থান করল বামেরা। বৃহস্পতিবার বামেদের জমায়েতের ঠিক পাশেই জমায়েত কর্মসূচি নিয়েছিল নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ। সিইও-র সঙ্গে দেখা করে বাম, আইএসএফের পাশাপাশি ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নাম নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা। তা নিয়ে কলকাতায় বৃহস্পতিবার পথে নেমেছিল বিজেপি। রানি রাসমণি রোড থেকে একগুচ্ছ ট্যাবলোর উদ্বোধন করা হয়েছে মোদীর ব্রিগেডের প্রচারের জন্য। তবে পদ্মশিবিরের কর্মসূচিতে কোথাও কমিশন ছিল না। বাকি সব পক্ষই কমিশনকে নিশানা করে কর্মসূচিতে নেমেছে। বামেদের তরফে মনোজের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানানো হয়েছে, ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিবেচনাধীন রেখে ভোট ঘোষণা করা যাবে না। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন, কমিশনের ফুল বেঞ্চ যে সর্বদল বৈঠক করবে, সেখানে এই কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন সিইও। একই দাবি নিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে কংগ্রেসও।
বৃহস্পতিবার আইএসএফ-এর জমায়েত কর্মসূচিতে নওশাদ সিদ্দিকি। —নিজস্ব চিত্র।
অন্য দিকে শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন রাখার প্রতিবাদে ধর্নায় বসছেন মমতা। বুধবার থেকেই মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছাকাছি জায়গা থেকে এসপ্ল্যানেড মেট্রোর ২ নম্বর গেট পর্যন্ত লম্বা করে বাঁধা হয়েছে প্রকাণ্ড মঞ্চ। দুপুর ২টোর সময়ে ধর্নায় বসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। তবে ধর্না কত দিন চলবে, সে ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি তৃণমূল। তবে মঞ্চের যে ধরনের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা দেখে অনেকেরই অনুমান, এক-আধ দিনেই এই ধর্না শেষ হবে না।
এই সম্ভাবনা আরও গাঢ় হতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ইস্তফা দিয়েছেন দিল্লিতে গিয়ে। তাঁর জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আরএন রবিকে। রবির নিয়োগ এবং বোসের পদত্যাগের ঘটনায় মমতা ‘স্তম্ভিত’ হয়েছেন। নির্দিষ্ট কারণ মমতা উল্লেখ করেননি। তবে জানিয়ে রেখেছেন, বোসের ইস্তফার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ থেকে থাকলে তিনি অবাক হবেন না। এ-ও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে কেবল জানিয়েছেন রবি রাজ্যপাল হচ্ছেন। কিন্তু কোনও পরামর্শ নেননি। ফলে মমতার শুক্রবারের ধর্নামঞ্চ যে শুধু এসআইআরের তালিকায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা মনে করছেন অনেকেই। জুড়ে যাবে রাজ্যপাল ‘বদলের’ প্রসঙ্গও।
এই জায়গায় মমতার ধর্না নতুন নয়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে এই মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা। তার পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে টানা কয়েক দিন ধর্না করেছিলেন এখানেই। ঘটনাচক্রে, সেই রাজীব বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সাত বছর পর ফের মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসছেন তৃণমূলের সর্বময়নেত্রী।