Special Intensive Revision

৫৮ লক্ষের পর ভোটার তালিকা থেকে আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষের নাম বাদ পড়ল রাজ্যে! এর পরও বাদ পড়ার সম্ভাবনা

শনিবার প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। ‘ডিলিটেড’, ‘বিচারাধীন’ ও ‘অ্যাপ্রুভড’ ক্যাটেগরিতে ভাগ চূড়ান্ত তালিকা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১১
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। অনলাইনে নিজের নাম রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট ভোটারেরা অনলাইনে এপিক নম্বর (ভোটার আইডি নম্বর) বসিয়ে তা দেখতে পারবেন। প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা থেকে আপাতত বাদ গেল ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম।

Advertisement

খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। ফলে সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বাদের হিসাব দাঁড়াল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনে। ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নতুন নাম যুক্ত হয়েছে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জনের। ৮ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নাম যুক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৬৭১ জনের। শনিবার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।

তবে শনিবার প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী যে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জনের নাম রয়েছে, তার মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম এখনও বিবেচনাধীন পর্যায়ে রয়েছে। যা বিবেচনা করছেন বিচারকেরা। এর মধ্যে থেকে আরও কিছু নাম বাদ যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ভোটারদের নামও যুক্ত হবে।

Advertisement

একাধিক রাজনৈতিক দল এসআইআর প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। শনিবার তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘কিছু ভুলভ্রান্তি’ হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই বিরাট প্রক্রিয়ায় এই ভুল নিতান্তই সামান্য। মনোজ এ-ও জানিয়েছেন, যেখানে যেখানে ভুল হয়েছে, সেখানে সেখানেই কমিশন পদক্ষেপ করেছে।

শনিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ মনোজ দাবি করেন, বিকাল সাড়ে ৫টা থেকেই ওয়েবসাইটে বিধানসভা এবং বুথভিত্তিক তালিকা দেখা যাবে। মনোজ বলেন, ‘‘দু’টি বিধানসভার তালিকা আপলোড করার ক্ষেত্রে সফ্‌টঅয়্যারে কিছু সমস্যা ছিল। সেই দুই বিধানসভা হল যাদবপুর এবং বিধাননগর।’’

গত বছর ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কথা জানিয়েছিল কমিশন। তখন রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। এনুমারেশন পর্ব শেষে গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েন ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। তালিকায় নাম ওঠে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। শনিবার চূড়ান্ত তালিকা হিসাবে কমিশন এই সব ভোটারের নামই প্রকাশ করেছে। এই ৭ কোটি ৮ লক্ষের মধ্যে শুনানির জন্য চিহ্নিত হন প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটার। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যা ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬। এই ভোটারেরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআরের সঙ্গে লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। বাকি ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র তালিকায় শুনানিতে ডেকে পাঠায় কমিশন। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়।

১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারদের নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি নিয়ে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি নিয়ে ইআরও এবং এইআরও-দের সঙ্গে সহমত হয় কমিশন। তারা জানিয়েছে, শুনানিতে বাছাই করে মোট ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, বিতর্ক বাধে বাকি ৬০ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে। ইআরও এবং এইআরও-দের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। অভিযোগ, কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজ়ারভারেরা বিপরীত মত দেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তির জন্য বিচারকদের দায়িত্ব দেন। আগামী বিধানসভা ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত তালিকার সঙ্গে প্রকাশিত হলেও আপাতত এটিকে বিচারাধীন হিসাবে রাখছে কমিশন। এই অবস্থায় তারা মনে করছে, বাকি ভোটারদের নিষ্পত্তি হলে, ভবিষ্যতে আরও নাম বাদ পড়বে।

শনিবারের প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় ‘ক্যাটেগরি’ আকারে ভোটারদের চিহ্নিত করেছে কমিশন। যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ডিলিটেড’ লেখা হয়েছে। নাম রয়েছে, অথচ নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি হয়নি, ওই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের তালিকায় লেখা ‘বিচারাধীন’। এ ছাড়া, যোগ্য ভোটারদের ‘অ্যাপ্রুভড’ করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement