TET

রাত পেরিয়ে সকাল, চাকরির দাবিতে পর্ষদের অফিসের সামনে এখনও অবস্থানে টেট-উত্তীর্ণরা

সোমবার দুপুর ২টো থেকে টানা অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। ২০১৭ সালে প্রার্থীদের সঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই অংশ নিতে চান না বলে সরব হয়েছেন ওই চাকরিপ্রার্থীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২২ ০৭:৩৭
Share:

অবস্থান বিক্ষোভে চাকরিপ্রার্থীরা। নিজস্ব চিত্র।

রাত পেরিয়ে সকাল। নিয়োগের দাবিতে সল্টলেকের করুণাময়ীতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসের সামনে ২০১৪ সালে টেট (প্রাথমিকে চাকরির যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা) উত্তীর্ণ 'নট ইনক্লুডেড' প্রার্থীদের অবস্থান বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত। সোমবার দুপুর ২টো থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ওই চাকরিপ্রার্থীরা। মঙ্গলবার সকালেও পর্ষদের অফিসের সামনে বসে রয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

তাঁদের দাবি, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরা অংশ নিতে চান না। তাঁদের সরাসরি নিয়োগ করতে হবে। বক্তব্য, তাঁরা প্রত্যেকেই ২০১৪ সালে টেট পাশ করেছেন। তার পর দু’বার ইন্টারভিউও দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের হাতে এখনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, আগামী বুধবার থেকে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পর্ষদ। বিক্ষোভ দেখানো চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আগে তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে হবে। ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের টেটে 'ব্যাপক দুর্নীতি' হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। বেআইনি ভাবে প্রাথমিকে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের অপসারিত করে মেধার ভিত্তিতে টেট-উত্তীর্ণ যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। ২০১৭ সালে প্রার্থীদের সঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ভাবেই অংশ নিতে চান না বলে সরব হয়েছেন ওই চাকরিপ্রার্থীরা। পরে অবস্থানরত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চার জন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দাবিসংবলিত পত্র তাঁর হাতে তুলে দেন।

এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “২০২০ সালে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রাথমিকে শিক্ষক পদে ২০ হাজার জনকে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু এক জনকেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।” ওই চাকরিপ্রার্থীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন প্রথমে ১৬, ৫০০ জনকে নিয়োগ করা হবে। তার পর ধাপে ধাপে বাকিদেরও নিয়োগ করা হবে। আমরা ওঁর কথার উপর ভরসা রেখেছিলাম। আমরা এখনও মুখ্যমন্ত্রীর কথার উপর ভরসা করতে চাই। তিনি অনুগ্রহ করে আমাদের নিয়োগের বিষয়টি দেখুন।”

Advertisement

সোমবার দুপুর থেকে টানা অবস্থানে বসে রয়েছেন ওই চাকরিপ্রার্থীরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করুণাময়ী ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। বিধাননগর কমিশনারেট থেকে প্রচুর মহিলা পুলিশকর্মীও মোতায়েন করা হয়। রাত ১১টায় পুলিশের তরফে ঘোষণা করা হয়, জমায়েতের সামনে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। মাইকে পুলিশকে এ কথা ঘোষণা করতেও শোনা যায় যে, হাইকোর্টের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক বোর্ডের নিয়োগ পদ্ধতি চলছে। ফলে প্রার্থীদের দাবি মেনে নিয়োগ করা সম্ভব নয়।

এর আগে, সোমবার অবস্থান বিক্ষোভ শুরুর আগে করুণাময়ীতে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের একটা দল করুণাময়ী মেট্রো স্টেশন থেকে দৌড়ে পর্ষদের অফিসের সামনে আসার চেষ্টা করেন। তাঁদের আটকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement