হাওড়ায় গড়া হবে ছোট শিল্পের ‘হাব’

প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, প্রথম পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যে বেশ কিছু অঞ্চলের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে। সেই কাজ সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্র থেকে হাওড়ায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে।

Advertisement

পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৭ ১৩:৪০
Share:

মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা। তাই এ বার হাওড়া জেলায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ‘হাব’ তৈরি করবে রাজ্য সরকার।

Advertisement

জেলার কোথায় কোন জমিতে কী ধরনের মাঝারি ও ছোট শিল্প হতে পারে, তা সমীক্ষা করে রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছিল পরামর্শদাতা সংস্থা ‘ক্রিসিল’কে। তারা সব দিক খতিয়ে দেখে ক্ষুদ্রশিল্প তালুকের জন্য প্রায় ৭০০০ একর জমি চিহ্নিত করেছে।

ক্ষুদ্রশিল্প দফতরের কর্তারা জানান, পতিত জমি কিন্তু জল, রাস্তা, বিদ্যুতের মতো পরিকাঠামো তৈরি করতে পারলে শিল্পের কাজে লাগানো যেতে পারে— এমন জমিই চিহ্নিত করেছে ক্রিসিল। সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এমন জমিতে হাব হলে ২০২৮-৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৫৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পরে অতিরিক্ত চার লক্ষ মানুষের। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকেরা চাইলে সরকার ওই জমি কিনে নেবে — জানান ক্ষুদ্রশিল্প দফতরের এক কর্তা।

Advertisement

ওই কর্তাটি জানিয়েছেন, ছোট শিল্পের প্রসারে হাওড়ায় ২০০ একর জমিতে ‘বেলুড় শিল্প তীর্থ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। ১০০ একর জমিতে একটি বস্ত্র শিল্প তালুকও গড়ে উঠছে। নতুন করে কোথায়, কী ভাবে শিল্প তালুক গড়ে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটানো যায় —এখন সেই পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, প্রথম পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যে বেশ কিছু অঞ্চলের পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে। সেই কাজ সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্র শিল্প ক্ষেত্র থেকে হাওড়ায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে।

Advertisement

কোন কোন শিল্পকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?

রাজ্যের শিল্পসচিব রাজীব সিন্হা বলেন, ‘‘হাওড়ায় সব ধরনের ক্ষুদ্র শিল্পের কথাই ভাবছি। তবে ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং, চর্মপণ্য, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, অলঙ্কার, প্লাস্টিক, রাবার, জরি, পাট প্রভৃতি শিল্পকেই প্রধান্য দেওয়া হবে।’’ তাঁর কথায়, প্রথাগত ভাবে হাওড়ায় ক্ষুদ্র শিল্পের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই শিল্পের উপযোগী মানবসম্পদও হাওড়া ও তার আশপাশের জেলাগুলিতে রয়েছে। তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনায় শিল্পের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জমির পাশাপাশি বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে এক জায়গা থেকে সব ধরনের অনুমতি দেওয়ার জন্য ‘এক জানলা’ ব্যবস্থাও চালু হতে চলেছে।

ক্ষুদ্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই এগিয়ে থাকা একটি রাজ্য। বণিকমহলের মতে, জমি নিয়ে জটিলতা এবং সরকার অধিগ্রহণ করে দেবে না জানিয়ে দেওয়ায় এ রাজ্যে নতুন বড় শিল্প হচ্ছে না বললেই চলে। নবান্নের কর্তারাও এটা বোঝেন বলেই মাঝারি ও ক্ষুদ্রশিল্পকে পাখির চোখ করছে এই সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মনে করেন, ছোট শিল্পের হাত ধরে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তাই হাওড়ায় এই হাব তৈরির পরিকল্পনা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement