রম্ভির কাছে পাহাড়ি পথে গাড়ি উল্টে উল্টে মৃত্যু হল শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা সমাজকর্মী সুনন্দা মুখোপাধ্যায় (৭৮) সহ আরেক মহিলার। অন্য মহিলার নাম গৌরী চৌধুরী দত্ত (৫০)। গুরুতর জখম হয়েছেন ওই গাড়িতেই থাকা আরও দশ জন। শনিবার বিকেলের পরে দুর্ঘটনা ঘটে। সকলকেই শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। অনাথ এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের রাখার জলপাইগুড়ির অনুভব হোমের আবাসিকদের সেলাই সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের কাজের তদারকি করতে সম্প্রতি লেখক প্রভাত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ সুনন্দা দেবী জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। এ দিন পরিচিতদের সঙ্গে সুনন্দা দেবী মংপুতে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি এবং সংগ্রহশালা দেখতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন অনুভব হোমের কর্ণধার দীপশ্রী রায়ও। ফেরার পথে রম্ভির কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি কয়েকবার পাল্টি খায় বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসে সকলকে উদ্ধার করে। ঘটনার পরেই সুনন্দা দেবী সংজ্ঞা হারান। নার্সিংহোমে নিয়ে আসার পরে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
নার্সিংহোম সূত্রে জানানো হয়েছে, ভর্তি তিন মহিলার কোমরে চোট লেগেছে। একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাদের পরিস্থিতি গুরুতর। একটি বড় গাড়িতে চেপেই সকলে জলপাইগুড়ি থেকে মংপুতে গিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ফেরার পথে রম্ভি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় রাস্তার বাক ঘুরতেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রাস্তার বা দিকে খাদ ছিল। গাড়িটি অবশ্য নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান দিকের একটি গর্তে পড়ে কয়েকবার পাল্টি খায়। সুনন্দা দেবী গাড়ির সামনের আসনেই বসে ছিলেন। গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় তিনি ছিটকে যান বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে, গৌরীদেবীরও কোমর, বুক মাথায় চোট লাগে।। নার্সিংহোমে নিয়ে আসার কিছুপরে তাঁরও মৃত্যু হয়।
অনুভব হোমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সুনন্দা দেবী যুক্ত রয়েছেন। হোমের কিশোরীদের সেলাইয়ের কাজ শেখানো সহ নানা সাংস্কৃতিক বিষয়েরও প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। প্রতি বছরই ৩১ ডিসেম্বর হোমের জন্মদিন পালন করা হয়। এবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সুনন্দাদেবী জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। হোমের কর্ণধার দীপশ্রী রায় বলেন, ‘‘সুনন্দা দেবী জলপাইগুড়িতে আসার পরেই ঠিক হয়েছিল, সকলে মিলে মংপুতে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ও সংগ্রহশালা দেখতে যাওয়া হবে। ফেরার পথে এমন ঘটনা হবে তা কি আশঙ্কা করা গিয়েছিল। আবাসিকাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ শনিবার রাতে ঘটনার খবর পেয়ে শিলিগুড়ির বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা নার্সিংহোমে গিয়েছিলেন।