(বাঁ দিকে) রথীন্দ্রনাথ বসু, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া-সহ বিধানসভায় তাদের বিধায়কদের জন্য ঘর কবে থেকে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। মঙ্গলবার বিধানসভায় নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এসেছিলেন তিনি।
পরে রথীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘ওদের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। আমাদের মনে হয়েছে, সেই চিঠিতে আরও কিছু যুক্ত করা জরুরি ছিল। আমাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ওই চিঠিতে বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করতে হবে। ওঁরা চিঠিটিতে সে সব যুক্ত করে পাঠিয়েছেন। আমরা চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছি।’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা বলেছি, সেই ঘরগুলি এখনও কী রকম অবস্থায় রয়েছে দেখতে হবে। আপনারা সকলেই প্রবীণ সদস্য। সবাই পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র নেতা। তাঁদের সকলকে সম্মানিত করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা ঘরগুলি সুন্দর করে গুছিয়ে তাঁদের হাতে তুলে দেব। আপাতত কয়েকদিন দেরি হতে পারে। ওঁদের ভাল ভাবেই ঘর দেওয়া হবে। আমাদের যে ঘর দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ঠিক ছিল না, ফলে কাজ করতে অসুবিধা হয়েছিল। আমরা চেষ্টা করব, আমাদের যে সমস্যাগুলো বিরোধী দল হিসেবে হয়েছিল, সেই অসুবিধা যেন ওদের না হয়।’’
এ বারের নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। অন্য দিকে, ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূল বিরোধীদলের মর্যাদা পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ, এখনও বিধানসভার সচিবালয় তৃণমূলকে বিধানসভায় বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ ঘরটি দেয়নি। পাল্টা বিধানসভার সচিবালয় জানিয়েছিল, তৃণমূলের তরফে যে চিঠিটি বিধানসভার সচিবালয়কে দেওয়া হয়েছে তাতে স্বাক্ষর রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিষেক তৃণমূল পরিষদীয় দলের কেউ নন, তাই তাঁর চিঠি কোনও ভাবে গ্রহণ করা হবে না। বরং পরিষদীয় দলের সদস্যদের স্বাক্ষর করা চিঠি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দল তৃণমূলকে। তার পরে তৃণমূলের তরফে আরও একটি চিঠি বিধানসভা সচিবালয় পাঠানো হয়েছে। বিধানসভার সূত্রে খবর, সেই চিঠিটিতেও বেশ কিছু গলদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও, বিষয়টি নিজের বিবেচনাধীন রেখেছেন স্পিকার।
অন্য দিকে, মঙ্গলবার বিধানসভায় নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে মাল্যদান করতে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আগামী জুন মাসের ১৮ তারিখ থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে বিরোধীদলকে মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য বরাদ্দ ঘর খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছে বিধানসভার সচিবালয়ের একাংশ।