Pratik Ur Rahaman

তরুণ প্রজন্মেও কেন ক্ষোভ, প্রশ্ন প্রতীক-উরের ধাক্কায়

প্রতীক-উরের চিঠির প্রেক্ষিতে সিপিএমে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় সূত্রের খবর, প্রাক্তন ছাত্র-নেতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকমের চেষ্টার পক্ষেই সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকে রায় হতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:১৮
Share:

প্রতীক-উর রহমান। — ফাইল চিত্র।

দৃশ্যত দলে এখন তরুণ মুখেরই প্রাধান্য। রাজ্যে গত লোকসভা নির্বাচনেও লড়াই হয়েছে মূলত তরুণ ব্রিগেডকে সামনে রেখে। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে তরুণ প্রজন্মের চাহিদা বা সমস্যার হদিস পেতে কি বড়সড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে? নাকি গোলমাল হচ্ছে সংগঠন পরিচালনার ধরনে? দল থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য কমিটির তরুণ সদস্য প্রতীক-উর রহমানের চিঠি নানা প্রশ্নই নতুন করে উস্কে দিচ্ছে সিপিএমের অন্দরে!

প্রতীক-উরের চিঠির প্রেক্ষিতে সিপিএমে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় সূত্রের খবর, প্রাক্তন ছাত্র-নেতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকমের চেষ্টার পক্ষেই সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকে রায় হতে পারে। তবে তার আগে সেই চেষ্টাতেই নেমে পড়েছেন সিপিএমের প্রবীণ ও তরুণ নেতারা। প্রতীক-উরের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হয়েছে, অন্য ভাবেও যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রথমে এড়িয়ে গেলেও প্রতীক-উরও তাঁদের সঙ্গে অন্তত কথা বলেছেন। যদিও চূড়ান্ত কোনও মত তিনি স্পষ্ট করেননি।

আবার এই সুযোগে জাল ফেলে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। সিপিএমের তরুণ নেতা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের মধ্যে কোনও বিধানসভা আসন থেকে তাঁকে প্রার্থী করার কথা ভেবে রাখা হচ্ছে বলে শাসক দলের একটি সূত্রের ইঙ্গিত। ওই সূত্রের আরও ইঙ্গিত, সিপিএমের মধ্যে নানা ভাবে কোণঠাসা আরও কিছু ‘উজ্জ্বল মুখে’র দিকেও শাসক দলের নজর আছে! আর তা বুঝেই প্রতীক-উরকে ধরে রাখতে আরও মরিয়া হচ্ছে সিপিএমের একাংশ।

তবে দলের মধ্যেই উঠছে নানা ‘অস্বস্তিকর’ প্রশ্ন। সিপিএমের একটি সূত্রের বক্তব্য, এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতির পদে অব্যাহতি নেওয়ার পরে প্রতীক-উরের জন্য নির্দিষ্ট ভাবে তেমন কোনও দায়িত্ব ছিল না। দলের মধ্যে এই নিয়ে কথা বলতে চেয়েও বিশেষ লাভ হয়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের অভ্যন্তরীণ বিবাদও তাঁর কাজ কঠিন করেছে। একটি সূত্রের মতে, একেবারে গরিব ঘর থেকে আসা প্রতীক-উর কাজ করতে চেয়ে দলে সে ভাবে কল্কে পাননি। তেমনই এমএ-বিএড করা তাঁর স্ত্রীর চাকরির চেষ্টাতেও ফল না-মেলায় পারিবারিক ভাবেও সঙ্কটে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। এ সবের জেরেই অভিমান ও ক্ষোভ ধীরে ধীরে দানা বেঁধেছে।

দলের অন্দরেই আলোচনায় আসছে, প্রতীক-উরেরা যখন ছাত্র সংগঠনে, সে সময়ে রাজ্যে যুব সংগঠনের শীর্ষে থাকা নেতৃত্ব বরং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কাছে অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন। সিপিএমের এক নেতার কথায়, ‘‘তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নির্দিষ্ট কয়েক জনের জন্য ‘অগ্রাধিকার’ আর বাকিদের জন্য ‘অন্ধকার’— এই রকম একটা ধারণা অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। অন্য দল সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতেই পারে। কিন্তু দলে আমাদের সৈনিকদের ধরে রাখার জন্য আমরা কী করছি, সেই প্রশ্নটার মুখোমুখিও হতে হবে!’’ দলের একাংশের মতে, ‘বৈষম্যের ক্ষোভ’ প্রতীক-উরদের দূরে ঠেলেছে আর কমিটির পদ হারানোর আশঙ্কায় দলের অনেক নেতা সব জেনে-বুঝেও সমস্যা নিরসনে সে ভাবে তৎপর হয়নি। সাম্প্রতিক অতীতে সিপিএমের বিধায়ক থাকাকালীন রাতারাতি দল বদল করেছেন আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা থেকে শুরু করে তাপসী মণ্ডল, খগেন মুর্মু বা কানাই মণ্ডল-সহ অনেকেই। তবে তাঁদের সঙ্গে প্রতীক-উরদের যে মেলানো যায় না, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই বাম শিবিরে।

এমতাবস্থায় মঙ্গলবার উত্তরপাড়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ‘পাড়া বৈঠকে’ গিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘‘গত কাল প্রতীক-উর তাঁর নিজের কথা নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন। আপনারা অযথা জলঘোলা করছেন কেন? এই নিয়ে আমাদের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ইতিমধ্যেই বলেছেন। এই নিয়ে যা বলার, রাজ্য নেতৃত্বই বলবেন।’’ এই সূত্রেও দলের একাংশের আক্ষেপ, উত্তরপাড়ার জন্য তৈরি হওয়ার বার্তা মীনাক্ষী পেয়েছেন কিন্তু বাকি তরুণদের জন্য দল একই মনোভাব দেখিয়েছে কি!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন