জেলায় ক’টা আসন, শুভেন্দু বলছেন তা-ও

মাস খানেক ধরে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে শাসক দলের তমলুক সাংসদের দ্বৈরথটা শুধু বাক্য-তোপেই থেমে থাকছে না, পরস্পরের দিকে কামান দাগার মঞ্চ হিসেবে তাঁরা বেছে নিচ্ছেন সেই সব মাঠ-ময়দান, যেখান থেকে দিন কয়েক আগে তাঁর প্রতিপক্ষ বোমা দেগেছেন। প্রথম জন কংগ্রেসের খাস তালুকে পা রাখলে, দিন কয়েকের মধ্যেই দ্বিতীয় জনের আঁতুর ঘরে গিয়ে তোপ দেগে আসছেন কংগ্রেস সাংসদ। সোমবার, শুভেন্দু অধিকারী যেমন, সভাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ধুলিয়ানের বড়তরফের ময়দান। ২৭ ডিসেম্বর যে ময়দান থেকে তাঁকে প্রবল বিঁধেছিলেন অধীর চৌধুরী।

Advertisement

বিমান হাজরা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:১৫
Share:

অধীর চৌধুরীর পাল্টা সভায় শুভেন্দু অধিকারী।— অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়

তরজার বিরাম নেই। সঙ্গে দোসর সভা-পাল্টা সভা। তৃণমূলের এক সাংসদকে ফিসফিস করে বলতেও হচ্ছে, ‘‘এ তো বহরমপুর-তমলুক কবির লড়াই দেখছি ভাই!’’

Advertisement

মাস খানেক ধরে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে শাসক দলের তমলুক সাংসদের দ্বৈরথটা শুধু বাক্য-তোপেই থেমে থাকছে না, পরস্পরের দিকে কামান দাগার মঞ্চ হিসেবে তাঁরা বেছে নিচ্ছেন সেই সব মাঠ-ময়দান, যেখান থেকে দিন কয়েক আগে তাঁর প্রতিপক্ষ বোমা দেগেছেন। প্রথম জন কংগ্রেসের খাস তালুকে পা রাখলে, দিন কয়েকের মধ্যেই দ্বিতীয় জনের আঁতুর ঘরে গিয়ে তোপ দেগে আসছেন কংগ্রেস সাংসদ। সোমবার, শুভেন্দু অধিকারী যেমন, সভাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ধুলিয়ানের বড়তরফের ময়দান। ২৭ ডিসেম্বর যে ময়দান থেকে তাঁকে প্রবল বিঁধেছিলেন অধীর চৌধুরী।

ধুলিয়ানের সেই সভায় হাজার পাঁচেক কর্মী সমর্থকের সামনে অধীরের দাবি ছিল— গোপনে তৃণমূলের অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোয়োগাযোগ রাখছেন এখনও। এ দিন জেলা নেতাদের সবাইকে নিয়ে তাই মঞ্চে উঠে ভরা মাঠে শুভেন্দু বলছেন, ‘‘আমরা দলের সকলের উপরেই নজর রাখছি।’’ এমনকী তাঁদের মোবাইলের ‘কল লিস্ট’ তুলে ধরে তাঁর দাবি, জেলা নেতাদের কে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ
করছে খুঁজে
দেখুক অধীর।

Advertisement

কান্দি পুরসভার পাঁচ কাউন্সিলরকে সদ্য দলবদল করিয়ে বেশ প্রত্যয়ী গলাতেই এ দিন তিনি জানাচ্ছেন, আসন্ন বিধানসভায় কংগ্রেসের গড়ে কোথায় ক’টা আসন তাঁরা পেতে চলেছেন— ‘‘আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর, কান্দি এবং ডোমকলে ১৪টি আসন দখল করব আমরা।’’ জানিয়ে রাখছেন, ধুলিয়ান দখল হয়ে গিয়েছে, কান্দি দখলের মুখে। গ্রাম পঞ্চায়েত ৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ , পঞ্চায়েত সমিতি এক থেকে বেড়ে সাতটি। পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে এক জনের পরিবর্তে সদস্য সংখ্যা এখন ১২। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এ বার দখলের পালা বেলডাঙা ও বহরমপুর পুরসভা এবং জেলা পরিষদ।’’ তবে লালবাগ ও বহরমপুর মহকুমায় তাঁরা যে কিছুটা দুর্বল স্বীকার করে নিয়েছেন তা-ও।

অধীর-আক্রমণেও আড়াল রাখছেন না তিনি। বলছেন, ‘‘অধীর চৌধুরীর ইতিহাস বিশ্বাসঘাতকতার।’’ কেন? শুভেন্দুর ব্যাখ্যা— ‘‘আরএসপি করতেন অধীর, তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি। মান্নান হোসেনকে হারিয়েছেন বিশ্বাসঘাতকতা করে।’’

দু সপ্তাহ আগে ধুলিয়ানে অধীরের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস নেতার তোপের কথা মনে রেখে এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘আসলে দলের নিরন্তর ভাঙন দেখে ওঁর (অধীর) মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নেমেছেন। নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনি (অধীর) সে প্রকল্পকে বাতিল করেছেন।’’ এ দিন তিনি দাবি করেছেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪, ক্ষমতায় ছিল ইউপিএ, সেই সময়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় সাংসদ, বিধায়ক, জেলা পরিষদ সব ছিল কংগ্রেসের। তা সত্বেও মুর্শিদাবাদ জেলার এই দুর্দশা কেন? শুভেন্দু স্পষ্টই বলছেন, কোটিপতি এক বিড়ি ব্যবসায়ীকে ধুলিয়ানে নামিয়েছেন অধীরবাবু। তারই পাল্টা বিড়ি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, ইমানি বিশ্বাস এবং মন্টু বিশ্বাসকে প্রার্থী করতে চলেছে তৃণমূল। তাঁর কথায়, ‘‘কোন ওষুধ কোথায় কাজে লাগে আমরা জানি।’’

এ দিন মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মান্নান হোসেনের সুরও ছিল বেশ চড়া। তবে এ দিনের সভায় জেলার তৃণমূলের নতুন ও পুরোনো সব নেতাই হাজির ছিলেন মঞ্চে। দলের অন্দরের খবর, আকচা আকচি দূরে ঠেলতে অন্তত প্রকাশ্যে সবাইকে নিয়েই সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জেলায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement