TMC in Rajya Sabha

দিল্লিতেও ভাঙন শুরু তৃণমূলের! নিশানায় মমতা, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুখেন্দুশেখরের, ছাড়লেন দলও, কোয়েলকে ঘিরে জল্পনা

আরজি করের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং দুর্নীতি নিয়ে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। দিল্লি থেকে ঘোষণা করলেন দল ছাড়ার কথা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১১:৫৬
Share:

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সাংসদ পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। সোমবার সকালে দিল্লি থেকে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন সুখেন্দুশেখর। সেই সঙ্গে আরজি করের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং দুর্নীতি নিয়ে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। দাবি, আরজি কর-কাণ্ডের পরেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এত দিনে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেন। অন্য দিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনিও দল ছাড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কোয়েল আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও ঘোষণা করেননি।সোমবার দিল্লিতে বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক রয়েছে। তাতে যোগ দিতে দেশের রাজধানীতে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা দিল্লিতে থাকাকালীনই সুখেন্দুশেখরের হাত ধরে সেখানে তৃণমূলের ঘর ভাঙা শুরু হয়ে গেল।

Advertisement

সোমবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে থাকছে না আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে। এ ছাড়া বাকি সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিই ওই বৈঠকে রয়েছেন। কংগ্রেস থেকে রয়েছেন রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধীরা। তাঁদের বৈঠক শুরুর আগেই সুখেন্দুশেখরের ইস্তফায় ধাক্কা খেল তৃণমূল।

বিধানসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই সুখেন্দুশেখর দলের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। আরজি করের ঘটনার সময় তিনি মুখ খুলেছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তবে তার পরেও দলের সঙ্গে থেকেছেন। সরকার বদলের পর আর চুপ করে থাকেননি। মমতার কাছে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সর্বত্র বেলাগাম দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি পদত্যাগপত্রে। দিল্লি থেকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজনীতি থেকেও তিনি অবসর নিতে পারেন। সুখেন্দুশেখরের দাবি, দলের অন্দরে দুর্নীতি এবং দল নিয়ে মানুষের ক্ষোভ মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাই পতন ছিল অনিবার্য। তবে তৃণমূলের সকলে অসৎ, এ কথা তিনি মানতে চাননি। দাবি, সৎ নেতারা দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

Advertisement

দলের জাতীয় স্তরের নেতাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর। আরজি করের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, ‘‘আরজি কর নিয়ে তো আমি প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলাম। তাই অনেক দিন ধরে দলের ভিতরে কোণঠাসা ছিলাম। আমার অপরাধ, আমি পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তের দাবি করেছিলাম। কারণ, আমি এখনও মনে করি ঘটনার প্রমাণ লোপাটে তাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই ঘটনার পর দোষীদের রক্ষা করার চেষ্টা চলছিল। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই, এই দলে বেশি দিন থাকব না। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলাম।’’

রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা না মেনে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেন কয়েক জন বিধায়ক। মোট ৫৯ জনের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জল্পনা, পরিষদীয় দলের পর একই ধাঁচে ভাঙতে পারে তৃণমূলের সংসদীয় দলও। সোমবার দিল্লিতে বেশ কয়েক জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ পৌঁছেও গিয়েছেন। যদিও প্রকাশ্যে তাঁরা কোনও দলবিরোধী মন্তব্য এখনও করেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement