রোদ ঝলমলে হাওয়া রজনীগন্ধার জন্য আদর্শ

রাতে সুবাসিত করে তোলে চারদিক—তাই নাম রজনীগন্ধা। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে— রজনীগন্ধার চাহিদা সারা বছর। দুধ সাদা রঙের এক সারির পাপড়ির ‘সিঙ্গল’ রজনীগন্ধার কাটতি বেশি।

Advertisement

হরষিত মজুমদার

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০১৬ ০২:০৩
Share:

রাতে সুবাসিত করে তোলে চারদিক—তাই নাম রজনীগন্ধা। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে— রজনীগন্ধার চাহিদা সারা বছর। দুধ সাদা রঙের এক সারির পাপড়ির ‘সিঙ্গল’ রজনীগন্ধার কাটতি বেশি। ২-৩ সারির পাপড়ি থাকে যে রজনীগন্ধায়, তা সেমি-ডাবল বলে পরিচিত। এই ফুলের রং সাদা হলেও গন্ধ কম। তিন সারির বেশি পাপড়িওয়ালা ‘ডাবল’ রজনীগন্ধার গন্ধ আরও মৃদু। তবে ফুলগুলো বড়, লালচে আভা যুুক্ত। সিঙ্গল ফুল সারা বছর ধরে ফুটলেও শীতকালে কমে আসে, সেখানে শীতকালে ছাড়া অন্য সময় পাপড়ি খুলতে চায় না ডাবল ও সেমি ডাবল।

Advertisement

মাটি

রজনীগন্ধা যে কোনও মাটিতে জন্মাতে পারে। অনুর্বর, নোনা ও ক্ষার মাটিতে চাষ করা যায়। তবে, দোঁয়াশ থেকে বেলে-দোঁয়াশে চাষ ভাল হয়। খুব হাল্কা বেলে মাটিতে চাষ না করাই ভাল। হাল্কা জমিতে পাশকাঠি বেশি হলেও গুণমানযুক্ত ফুল হয় না। মাটির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৭.৫-এর মধ্যে থাকলে ভাল। জমিতে যত আলো-হাওয়া খেলবে, তত ভাল। উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা জরুরি।

Advertisement

জলবায়ু

উজ্জ্বল সূর্যালোক আর আর্দ্র জলবায়ু প্রয়োজন। গড়ে ২০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ঠিকঠাক। বেশি তাপমাত্রায় ফুল ছোট হয়ে যায়। আবার কুয়াশা সহ্য করতে পারে না।

Advertisement

বংশবিস্তার

শোধন করা কন্দ বা গেঁড় থেকে চারা হয়। এক বার লাগালে রজনীগন্ধা তিন বছর পর্যন্ত ভাল ফুল দেয়। তার বেশি হলে ফলন ভাল দেয় না। তখন কন্দগুলি তুলে ফেলে পুনরায় শোধন করে লাগাতে হয়। ফুল ফোটার শেষে মূল থেকে কন্দ তুলে ভাল কন্দগুলি আলাদা করে ছায়া জায়গায় পাতলা ভাবে বিছিয়ে খড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। লাগানোর আগে আর এক বার ধুয়ে-শুকিয়ে আড়াই -তিন সেমি ব্যাসের মোটা কন্দগুলি ২৪ ঘণ্টা ওষুধ জলে (প্রতি লিটার জলে ৩ গ্রাম কপার অক্সিক্লোরাইড এবং ১ মিলি ফসফোমিডন) ডুবিয়ে রাখতে হবে। এর পর ফের ছায়ায় শুকিয়ে জমিতে লাগাতে হবে। সমভূমি অঞ্চলে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ও পাহাড়ি অঞ্চলে এপ্রিল-মে মাসে লাগানো হয়। সাধারণত ৪-৭ সেমি গভীরতায় কন্দ লাগানো উচিত। লাইন থেকে দূরত্ব ২৫ সেমি ও কন্দ থেকে কন্দের দূরত্ব ১০-১৫ সেমি হলে ভাল।

জমি তৈরি ও সার

জমি আড়াআড়ি ভাবে ৩-৪টি গভীর চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে। ইট বা পাথরের টুকরো, আগাছা, পূর্ববর্তী ফসলের গোড়া বেছে ফেলতে হবে। চারা বসানোর এক মাস আগে একরে ২০ টন খামারজাত জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। রাসায়নিক সার হিসাবে ৪০ কেজি ইউরিয়া, ৪০ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট ও ৭২ কেজি মিউরিয়েট অফ পটাশ দরকার। এই সার চাপান হিসাবে এক মাস অন্তর দু’বারে দিতে হবে। নিমখোল ব্যবহার করলে পোকার আক্রমণ কম হয়। ফসফেটের জন্য হাড়গুঁড়ো সার (একরে ৩২০ কেজি) ব্যবহার করা যায়। শিং কুচো ব্যবহার করলে তাতে ফসফেট কম, নাইট্রোজেন বেশি। সার দেওয়ার পর সেচ আবশ্যিক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরেও একই পরিমাণে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে।

পরিচর্যা

কন্দ লাগানোর দু’সপ্তাহের মধ্যে চারা গজায়। এই সময় ঘন ঘন নিড়ানি দিয়ে আগাছা দমন করতে হবে ও প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। গরমে ১০-১৫ দিন, শীতে এক মাস অন্তর জল দিতে হবে। শীতকালে পাতা শুকিয়ে যায়। তা কেটে দু’টি সারির মাঝের জমি কুপিয়ে দিন। আগাছানাশক হিসাবে অ্যাট্রাজিন প্রতি একরে ১২ কেজি এআই প্রয়োগে ৭৫ শতাংশ ফলন বাড়ে।

ফুল তোলা

ফুলগুলি একেবারে ফুটন্ত অবস্থায় না তুলে আধফোটা অবস্থায় ধারালো ছুরি দিয়ে গোড়া থেকে কেটে নিতে হবে। গোড়ার দিকের ফুল আগে ফোটে। এরপর গোছা করে গামলা বা বালতির জলে গোড়া ডুবিয়ে রাখতে হয়। ফসফেট সারের অভাব থাকলে কিন্তু ফুল ঝরে পড়বে। কুচো ফুলের জন্য ফোটার এক দিন আগে বিকালে তুলে ফেলতে হবে। এই সময় কুঁড়িটা বড় ও সাদা হয়ে যায়। দ্বিতীয় বছরে ফুলের উৎপাদন ও গুণমান বাড়ে। তৃতীয় বছরে দু’টোই কমে যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement