—প্রতীকী চিত্র।
‘পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে গত দশ বছরের অভিজ্ঞতা ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালত এর আগে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করেছে। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের দাবির মামলাও গ্রহণ করেছে। এ বার মাদ্রাসায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলল।
তৃণমূল জমানায় ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি নিয়োগ করেছিল। আজ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি জর্জ অগাস্টিন মসিহ-র বেঞ্চ এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেছেন, ‘‘রাজ্যে কয়েক হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি সেখানে নিয়োগের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা নিজেদের ‘নয়নমণি’-দের উপযুক্ত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ করেছে। কিসের বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে, তা কারও অজানা নয়। পশ্চিমবঙ্গে গত দশ বছরে শিক্ষায় নিয়োগে যা হয়েছে, তা ভয়াবহ।’’ মামলার অন্যতম আইনজীবী পীযূষ রায় মন্তব্য করেছেন, ‘‘দশ বছর নয়, পনেরো বছর।’’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে কলকাতা হাই কোর্ট বাম জমানায় তৈরি ২০০৮ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে সাংবিধানিক ভাবে অবৈধ বলে খারিজ করে দেয়। সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন কমিটির হাতেই থাকার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল হাই কোর্ট। তৃণমূল সরকারের অবস্থান ছিল, মাদ্রাসায় নিয়োগ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালে হাই কোর্টের রায় খারিজ করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়। ইতিমধ্যে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি যাঁদের নিয়োগ করেছিল, তাঁরা চাকরি রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। এই মামলাকারীদের অন্যতম আইনজীবী সুনন্দ রাহা বলেন, ‘‘এঁরা কেউ সরকারের থেকে বেতন পাচ্ছেন না। বিনা বেতনে বছরের পর বছর কাজ করে চলেছেন।’’ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত প্রশ্ন তুলেছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইনের বৈধতা খারিজের পরে আগের ব্যবস্থা অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ করার কথা। কী ভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করতে পারে? নিয়োগের ক্ষেত্রে কি সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে কেন? সরকারের কোনও মনোনীত ব্যক্তি কি ছিলেন পরিচালন কমিটিতে? নিয়োগের ক্ষেত্রে কি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল? এক জন শিক্ষাকর্মীর আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেল ‘ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ’ দিয়েছিলেন। বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সরকারি টাকায় বেতন হবে, এমন চাকরিতে ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ? কোন নিয়মে রয়েছে দেখান।’’ বুধবার এই মামলার বিস্তারিত শুনানি হবে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে