মমতাকে বিঁধে শমীককে বাহবা দিলেন সূর্যকান্ত

কাগজে-কলমে সর্বদল প্রস্তাব। প্রত্যাশিত ভাবেই সেই প্রস্তাবের অবসরে রাজ্যের শাসক দলকেই আক্রমণ শানাল বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকেই সরাসরি ‘রাজনৈতিক ভাবে অসহিষ্ণু’ বলে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৩৯
Share:

কাগজে-কলমে সর্বদল প্রস্তাব। প্রত্যাশিত ভাবেই সেই প্রস্তাবের অবসরে রাজ্যের শাসক দলকেই আক্রমণ শানাল বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকেই সরাসরি ‘রাজনৈতিক ভাবে অসহিষ্ণু’ বলে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা। পাল্টা কটাক্ষ এল শাসক বেঞ্চ থেকেও। তবে সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ কৌশলে বিধানসভায় নথিভুক্ত করে নিলেন বিরোধী শিবিরের বিধায়কেরা! তারই মধ্যে আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে কৌশলে বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্যের প্রশংসা করলেন বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র!

Advertisement

দেশ জো়ড়া বিতর্কের আবহে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ‘অসহিষ্ণুতা’ নিয়ে বুধবার বিধানসভায় সর্বদল প্রস্তাব পেশ করেছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শাসক দলের লক্ষ্য ছিল মূলত বিজেপি-বিরোধিতা সুর বিধানসভাতেও তুলে আনা। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়েনি বামেরা! আরএসপি-র সুভাষ নস্কর যেমন বলেন, ‘‘কেন আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় থাকেন না? কেন সারের দাম নিয়ে প্রশ্ন করলে মুখ্যমন্ত্রী কউকে মাওবাদী বলেন? এগুলো অসহিষ্ণুতা নয়?’’ ফরওয়ার্ড ব্লকের পরেশ অধিকারী বলেন, কার্টুন-কাণ্ডের অম্বিকেশ মহাপাত্র, কামদুনির মৌসুমী কয়াল বা কাকদ্বীপে নির্যাতিতার পরিবার শাসকের ‘অসহিষ্ণুতা’রই জ্বলন্ত উদাহরণ।

পরে বিরোধী দলনেতা সূর্যবাবু নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রীকেই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমিও অসহিষ্ণু। আমি মনে করি, আমাদের সকলেরই একটু অসহিষ্ণু হওয়া উচিত। আমরা অসহিষ্ণু অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে! কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অসহিষ্ণু। তাঁর অসহিষ্ণুতা রাজনৈতিক।’’ বিরোধী কণ্ঠ দেখলেই তাকে রোধ করতে চাওয়ার চেষ্টার কথা তুলে আনেন বিরোধী দলনেতা। তার আগে কংগ্রেসের মানস ভুঁইয়াও কৌশলে খোঁচা দেন শাসক দলকে। তিনি বলেন, ‘‘এ রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসহিষ্ণুতা যেন চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছয়। গণতান্ত্রিক কাঠামোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অসহিষ্ণুতা দিয়ে ধ্বংস করে দেব, এটা যেন বাংলায় না হয়!’’ মানসবাবুর এই বক্তব্যে সমর্থন করেন বামেদের তরফে সূর্যবাবুও।

Advertisement

শাসক দলের তরফে পাল্টা কটাক্ষের কাজ শুরু করেছিলেন আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাম আমলের ঘটনা টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘ফেলানি বসাকের ঘটনার সময় যদি সহিষ্ণুতা থাকত!’’ বক্তৃতার একেবারে শেষ পর্বে ওই প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে চন্দ্রিমা অবশ্য আর সময় পাননি। মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রসিকতার সুরে বলেন, ‘‘আমরা সহিষ্ণু বলেই আপনারা সবই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি বলছেন!’’ তবে চন্দ্রিমার অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন পার্থবাবুই। জবাবি ভাষণে আগের সরকারের কথা বোঝাতে তাঁর পাল্টা কটাক্ষ, ‘‘মাঝে মাঝে ভাবি, সহিষ্ণুতা যদি থাকত, সিঙ্গুর কি ঘটতো? নন্দীগ্রাম কি ঘটতো? নেতাই কি ঘটতো?’’

পরস্পর-বিরোধিতা থাকলেও তৃণমূল, বাম বা কংগ্রেস শিবিরের সব বক্তাই যে ভাবে বিজেপি-র রাজনীতির কড়া নিন্দা করেছেন, তাতে সংখ্যালঘু মন জয়ের চেষ্টাই দেখছেন অনেকে। এসইউসি-র বিধায়ক তরুণ নস্করের প্রস্তাবেই এ বারের অধিবেশনে শেষ পর্যন্ত এমন বিতর্কের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। তরুণবাবুও এ দিন তুলোধোনা করেছেন কেন্দ্রের শাসক দলকে। তাঁর পাশের আসনের বিধায়ক শমীকই ছিলেন ব্যতিক্রম! অসহিষ্ণুতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগ়়ড়ায় তোলার প্রতিযোগিতার পাল্টা সমালোচনা করেছেন বিজেপি বিধায়ক। সেই সঙ্গেই রাজ্যের শাসক দলকে খোঁচা দিয়েছেন, ‘‘এক জনের ইফতার পার্টিতে যোগ দেওয়ায় দু’জনকে এ দিক থেকে ও দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হল! আবার এ দিকে ফিরিয়েও নেওয়া হল। এর মতো অসহিষ্ণুতা আর কিছু আছে নাকি?’’ শমীকের ইঙ্গিত যাঁদের দিকে, সেই শিউলি সাহা, শীলভদ্র দত্ত তখন উপস্থিত।

Advertisement

তৃণমূলকে একঘরে করতে শমীককে পরে অবশ্য কৌশলে কাছে টানার চেষ্টা করেছেন সূর্যবাবু। শমীকের বাক্চাতুর্যের প্রশংসা করে তাঁর খোলাখুলি মন্তব্য, ‘‘ওঁর মতো বক্তৃতা করতে আমি পারব না! আর শমীকবাবুকে সাম্প্রদায়িক বলেও মনে করি না। ওঁর দলটা আরএসএস চালায়। তাই এ সব কথা ওঁকে বলতে হয়!’’ সর্বদল প্রস্তাবে সই করেননি একমাত্র শমীকই। তবে দিনের শেষে তাঁর হাসি বেশ চওড়া দেখিয়েছে!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement