বিরোধিতার অধিকার ফেরাব, আশ্বাস সূর্যের

শিল্পের দাবিতে মাইলের পর মাইল পথ হাঁটা হয়েছে। কৃষকের অধিকার চেয়ে নবান্ন অভিযান হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদ জানাতে লালবাজারের উদ্দেশে মিছিল করে বিক্ষোভ হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১৩
Share:

আলিপুরের সভামঞ্চে সূর্যকান্ত মিশ্র। বৃহস্পতিবার। ছবি: শুভাশিস ভট্টাচার্য।

শিল্পের দাবিতে মাইলের পর মাইল পথ হাঁটা হয়েছে। কৃষকের অধিকার চেয়ে নবান্ন অভিযান হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদ জানাতে লালবাজারের উদ্দেশে মিছিল করে বিক্ষোভ হয়েছে। এ বার বিরোধিতা করার অধিকার বাঁচিয়ে রাখার জন্যই বামফ্রন্টকে সমর্থন করার আবেদন জানালেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র! তৃণমূল সরকারের সমালোচনার চেয়েও বিরোধী দলনেতার এই আশ্বাসেই বৃহস্পতিবার বিপুল করতালি শোনা গেল তিন-তিনটি সমাবেশে!

Advertisement

আলিপুর, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ এবং বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট-গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে দিনভর বামেদের তিনটি জমায়েতে মূল বক্তাই ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তার মধ্যে রানি রাসমণিতে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটির জমায়েতে উপচে পড়েছিল ভিড়। উদ্যোক্তাদের দাবি, তৃণমূল জমানায় এই প্রথম তাঁরা সরকারি কর্মীদের নিয়ে এত বড় সমাবেশ করতে পারলেন। সেখানেই সূর্যবাবু বলেন, ‘‘আমাদের সরকার যখন মহাকরণে ছিল, টিফিনের বিরতির সময় জ্যোতি বসুর কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও স্লোগান দিয়ে মিছিল হতো! বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়েও হতো। তার জন্য কারও চাকরি গিয়েছে? কারও মাইনে কাটা হয়েছে? বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে সেই অধিকার আবার আপনাদের থাকবে। যে কোনও সংগঠন করতে পারবেন, আমাদের বিরোধিতা করতে পারবেন। সেই অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই বামপন্থীদের পাশে দাঁড়ান!’’

সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়েও প্রত্যাশিত ভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। সেই সঙ্গেই আশ্বাস দিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের দাবি-দাওয়া মাথায় রেখেই তৈরি হবে বামেদের বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার। প্রতিবাদ-ধর্মঘটে যোগ দিলেই চাকরি নিয়ে টানাটানি বন্ধ হবে। এই সূত্রেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনাদের পাওনা না দিয়ে জনগণের টাকায় মুখ্যমন্ত্রী উৎসব করে বলছেন, বেশ করেছি! আপনাদের জন্য একটা উৎসব অপেক্ষায় থাকল! এই সরকারকে বিদায় করার পরে আমরা একটা উৎসবে মিলিত হব!’’

Advertisement

শুধু সরকারি কর্মীই নয়। বাম বৃত্তের বাইরে গিয়ে সব ধরনের মানুষকেই পাশে পাওয়ার জন্য এ দিন দফায় দফায় তিনটি সমাবেশ থেকে চেষ্টা চালিয়েছেন সূর্যবাবু। তৃণমূলের হাতে তৃণমূল কর্মীরাই নিরাপদ নন— এর একাধিক দৃষ্টান্ত দিয়ে বিরোধী দলনেতা আবেদন জানিয়েছেন শাসক দলের আক্রান্ত অংশের কাছে। সেই সঙ্গেই প্রকাশ্যে নিজেদের ভুল-ত্রুটি ফের কবুল করে দূরে সরে যাওয়া মানুষের মন পেতে সক্রিয় সূর্যবাবুর কথায়, ‘‘আমরা কখনওই বলিনি, আগে যা করেছি, সব ঠিক করেছি! নিজেদের বুক চিরে আত্মসংশোধন করছি! ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, ক্রটি শুধরে আমরা সামনে এগোব।’’ দলের কর্মীদের প্রতি রাজ্য সম্পাদকের পরামর্শ, ‘‘যাঁরা আমাদের গালি দিয়েছেন, তাঁদের দূরে ঠেলবেন না। মনে রাখতে হবে, গালি যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের দোষ নয়। দোষ আমাদের!’’ বাম জমানার শেষ দিকে অজস্র কর্মীর প্রাণহানি এবং এই আমলে ১৭২ জনের মৃত্যুর পরেও বামেদের লড়াই যে মানুষের পুরোপুরি আস্থা অর্জন করতে পারেনি, তা মেনে নিয়েই ত্রুটি সংশোধনে জোর দিয়েছেন সূর্যবাবু। লালবাজারের অদূরে বিক্ষোভ সমাবেশে এ দিন বক্তা ছিলেন বিমান বসু, প্রবোধ পণ্ডা, প্রবীর দেব, জীবন সাহা প্রমুখ বাম নেতারাও।

তৃণমূল আবার এ দিনই পথে নেমে পাল্টা আক্রমণে গিয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের উন্নয়নের প্রচারে এ দিন দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের তরফে গোলপার্ক থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল হয়। মণীশ গুপ্ত, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন কাউন্সিলরদের নিয়ে মিছিল শেষে বিরোধীদের আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতারা। শোভনদেব যেমন বলেন, ‘‘যাঁরা রাজ্যে শিল্প নেই বলে অভিযোগ করছেন, তাঁরা কি রাজ্যের উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না?’’ বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ করতে রাজ্যের উন্নয়ন-কাজের তালিকা নিয়ে এলাকায় এলাকায় মানুষকে বোঝাতে কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন শোভনদেবরা।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement