প্রশান্ত বর্মণ। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
আটক সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে নতুন এক অভিযোগ। সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় তাঁর গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। এই ঘটনায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। আপাতত প্রশান্তকে ইকোপার্ক থানায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্ত। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় আচমকা তাঁর গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। যেখানে ঘটনাটি ঘটে সেখানে কিছুটা দুরে একটি স্কুটার দাঁড় করানো ছিল। তিনি ছিটকে এসে ওই স্কুটারআরোহীর গায়ে গিয়ে পড়েন। ওই ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। স্কুটারআরোহী প্রশান্তর গাড়ি আটকান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ।
দীর্ঘ দিন ধরে প্রশান্ত ‘ফেরার’ ছিল বলে দাবি পুলিশের। যদিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ একাধিকের। স্থানীয়দের দাবি, এর মাঝে বেশ কয়েকবার নিউটাউনের বাড়িতে প্রশান্তকে দেখা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর, তাঁকে হাতেনাতে পুলিশ আটক করেছে।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে তিনি তা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। ওই অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ।