মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্রে নারী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার নবান্নে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে সাইবার অপরাধ দমনেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধকে ‘মহামারি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। শুধু অপরাধ দমন নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পুলিশকে ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার কথাও বলেছেন। এ-ও জানিয়েছেন, অভিযোগ আড়াল করলে চলবে না। রাজ্যের অপরাধের খতিয়ান নিয়মিত কেন্দ্রকে জানানোর নির্দেশও দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, তৃণমূল আমলে রাজ্যের অপরাধের খতিয়ান ছেঁকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
তবে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নানা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কোনও কথা কেন শোনা গেল না? প্রসঙ্গত, এই ডিম ছোড়ার ঘটনায় রাজ্যকে অভিযুক্তের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে বলেছে কোর্ট।
প্রত্যেক থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালুর কথা জানিয়েছে নবান্ন। সেই হেল্প ডেস্ক মহিলা ও শিশুদের প্রতি অপরাধ, গার্হস্থ্য হিংসা দমনের পাশাপাশি মহিলাদের আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের কাজ করবে। পুর এলাকায় পথেঘাটে মহিলাদের প্রতি অসংগঠিত অপরাধ দমনে ‘দুর্গা বাহিনী’ নামে মহিলা পুলিশের বিশেষ দল মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। মোটরবাইক আরোহী সেই বিশেষ দলের উদ্বোধনও হয়েছে। অডিয়ো-ভিডিয়ো তথ্য দিতে সক্ষম সিসি ক্যামেরা বসানো এবং উপযোগী কন্ট্রোল রুম খোলার কথাও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “অভয়ার ঘটনা আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।” এত প্রকল্প চালানোর মতো প্রয়োজনীয় পুলিশকর্মী আছেন তো? মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বলেন, “জনসংখ্যার সঙ্গে পুলিশকর্মীর অনুপাতে কিছু ঘাটতি আছে। দ্রুত নিয়োগে সেই ঘাটতি পূরণ হবে।” সাইবার অপরাধ দমনে রাজ্যের এক জন ‘সিনিয়র’ আইপিএস অফিসারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাইবার অপরাধ মহামারির আকার নিয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এই অপরাধ দমনে এক জন সিনিয়র আইপিএসকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
আগের আমলে পুলিশে রাজনৈতিক শৃঙ্খলের অভিযোগ করতেন বিরোধীরা। সূত্রের খবর, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ স্বাধীন ভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে। সব বিষয়ে নবান্নের অনুমতি নিয়ে পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এ-ও জানিয়েছেন যে অভিযোগ চেপে রাখার দরকার নেই। কারণ, ‘রোগ’ চেপে রাখলে তা ‘ভয়ঙ্কর অসুখ’ হয়ে প্রকাশ পায়। তবে পুলিশের একাংশ বলছে, এই স্বাধীনতা সব ক্ষেত্রে বজায় থাকবে কি না, তা পরে বোঝা যাবে। আগের আমলে পুলিশ কল্যাণ পর্ষদ নামে একটি সংগঠন খুলেছিল তৎকালীন সরকার। পালাবদলের পরে তা ভেঙে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাহিনীর কাঠামো-পদমর্যাদা বজায় রেখে পুলিশকর্মীরা নিজেদের কল্যাণমূলক কাজের জন্য আবেদন জানাবেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে