Suvendu Adhikari

ভোটারদের হয়রানির পাল্টা অভিযোগে লোকভবনে শুভেন্দু

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু সোমবার বিকেলে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল বোসের হাতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবিপত্র তুলে দেন। শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া, সঞ্জয় সিংহ এবং বিধানসভায় দলীয় সচেতক শঙ্কর ঘোষ, অম্বিকা রায়, অশোক দিন্দা, পবন সিংহ-সহ ১২ জন বিধায়ক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৫
Share:

রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের কাছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি প্রতিনিধিরা। — নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দিন দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গেলেন, একই সময়ে কলকাতায় লোকভবনে (সাবেক রাজভবন) গিয়ে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির বিধায়ক ও প্রতিনিধিরা। তাঁদের যুক্তি, নির্বাচনী ভাষ্য তৈরির লক্ষ্যে শাসক দল তৃণমূল রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বুথ স্তরের আধিকারিকদের দিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত ভাবে ভোটার মানুষের হয়রানি ঘটাচ্ছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু সোমবার বিকেলে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল বোসের হাতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবিপত্র তুলে দেন। শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া, সঞ্জয় সিংহ এবং বিধানসভায় দলীয় সচেতক শঙ্কর ঘোষ, অম্বিকা রায়, অশোক দিন্দা, পবন সিংহ-সহ ১২ জন বিধায়ক। বিরোধী নেতার অভিযোগ, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার পরিকল্পনায় সরকারি আধিকারিকদের একটা অংশ ইচ্ছাকৃত ভাবে ছোট ছোট ভুল করে মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলেছেন। শুনানি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।" তাঁর সংযোজন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন, ভাল কথা। কিন্তু এখানে পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকার কারণেই নির্বাচন কমিশন শুনানিতে ডাকছে। যে বানান ভুল হয়েছে, সেগুলো বিএলও-দের ভুলের জন্যই হয়েছে। রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) বাদ দিয়ে বাকি সকলেই রাজ্য সরকারের দ্বারা নিযুক্ত। এই হয়রানির জন্য রাজ্য প্রশাসনের সর্বময় কর্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীই দায়ী।’’

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ অবশ্য পাল্টা বলেছেন, ‘‘সবই যদি পূর্বপরিকল্পিত হয় এবং শুভেন্দু জেনে থাকেন, তা হলে এসআইআর করাতে ওঁরা গেলেন কেন? প্রথমে বলেছিল, কয়েক কোটি নাম বাদ যাবে, দিকে দিকে রোহিঙ্গা। একটা রোহিঙ্গাও বার করতে পারেনি!’’

শুভেন্দু জানান, যে হেতু বিএলও, ইআরও, এইআরও, ডিইও-দের মুখ্যসচিব নিয়োগ করেছেন, তাই তিনি প্রথমে মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করতে অপারগতার কথা জানানোয় বিরোধী দলনেতা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন। পরে মুখ্যসতিব সময় দিলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেও অভিযোগ জানানো হবে। ইচ্ছাকৃত ভাবে গাফিলতি করে মানুষকে হয়রানির মধ্যে ফেলা, অনেক ক্ষেত্রে এইআরও হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, কমিশন চাইলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না দেওয়া, কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন-সহ একাধিক অভিযোগে এ দিন রাজ্য বিজেপির তরফে প্রতিটি জেলায় ডিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

পাশাপাশিই, রবীন্দ্র সরোবর থানার অধীনে কাঁকুলিয়া রোডে রবিবার রাতে যে বোমা-গুলি নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রেক্ষিতেও সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী, বিধায়ক, পুর-প্রতিনিধির সঙ্গে ওই হামলার পান্ডা সোনা পাপ্পুর ওঠাবসা আছে। ছবি পাওয়া যাবে। ভোটের দিনে সোনা পাপ্পুই এলাকায় শাসক দলের ভোট করায়। এ-ও আর এক শাহজাহানের মতো কারবার চালায় শাসক দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে!’’ বিধায়ক এবং দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমারের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘কোনও অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে ছবি দেখা যেতেই পারে। কিন্তু কেউ অভিযুক্ত হলে আইন মেনে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। সেই দাবিই করছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন