প্রতীকী চিত্র।
ইদানিং ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম’ বুঝতে চাইছেন অনেকেই। তাই দন্তপরিচর্যা বিশেষজ্ঞ বা ডেন্টাল হাইজিনিস্ট কদর বাড়ছে। দাঁতের সমস্যার জন্য দন্তচিকিৎসকের পাশাপাশি এই দন্তপরিচর্যা বিশেষজ্ঞদের ক্লিনিকেও বাড়ছে ভিড়।
ডেন্টাল হাইজিনিস্টদের কাজ কী?
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত এই পেশাদারেরা মূলত দাঁতের প্রাথমিক পরিচর্যার কাজ করেন। দাঁতের যে কোনও রোগ প্রতিরোধে এক সুরক্ষা বলয় তৈরি করে দেন। দাঁত পরিষ্কার, স্কেলিং, পলিশিং-এর মতো কাজ করতে হয়। মাড়ির রোগ প্রতিরোধ ও তার যত্ন নেওয়া এবং মুখগহ্বরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার খুঁটিনাটি শিখিয়ে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে, দাঁতের ক্ষয় হয়েছে কি না, তা শনাক্তও করেন তাঁরা।
দন্তচিকিৎসকের সঙ্গে ফারাক কোথায়?
দন্তচিকিৎসকদের অধীনে এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানেই কাজ করেন ডেন্টাল হাইজিনিস্টরা। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যরক্ষাই তাঁদের কাজ। তবে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের পরিধির মধ্যে খানিকটা তফাত রয়েছে। দন্তচিকিৎসকেরা প্রকৃতপক্ষে দাঁতের বিশেষজ্ঞ। পড়তে হয় চিকিৎসাবিজ্ঞান। দাঁতের রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, দাঁত তোলা, অস্ত্রোপচার, রুট ক্যানেল, ফিলিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তাঁরা। লিখে দেন ওষুধও। কিন্তু ডেন্টাল হাইজিনিস্টেরা শুধু রোগ প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু রোগীর দাঁত ও মাড়ির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন হাইজিনিস্টেরা। তাই তাঁদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।
কেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন?
দন্তচিকিৎসকদের মতো এ ক্ষেত্রে মেডিক্যালের কোনও কোর্সে ভর্তি হতে হয় না। আগ্রহীদের দ্বাদশের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। দ্বাদশের পাঠ্যক্রমে থাকতে হয় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যার মতো বিষয়।
কোর্স—
দ্বাদশোত্তীর্ণ হওয়ার পর পড়ুয়াদের ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল হাইজিন (ডিডিএইচ) কোর্সে ভর্তি হতে হয়। কোর্সটি ডেন্টাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া অনুমোদিত। কোর্সের মেয়াদ দু’বছর।
প্রবেশিকা—
অনেক ক্ষেত্রে রাজ্যস্তরে আয়োজিত প্রবেশিকা বা প্রতিষ্ঠান আয়োজিত প্রবেশিকার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কোর্সে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগও মেলে।
কোর্স ফি—
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোর্স ফি-র পরিমাণ বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—
১। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়
২। গভর্নমেন্ট ডেন্টাল কলেজ, বেঙ্গালুরু
৩। পটনা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল
৪। তামিলনাড়ু সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
৫। এমস দিল্লি
৬। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেল্থ, কলকাতা
৭। এমস কল্যাণী
৮। সেন্ট্রাল ক্যালকাটা মেডিক্যাল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট
চাকরির সুযোগ—
শহরে এবং গ্রামের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ, রেল বা প্রতিরক্ষা দফতরের হাসপাতালে চাকরির সুযোগ থাকে এই পেশাদারদের। একইসঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্পোরেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকেও কাজের সুযোগ থাকে।