যাদবপুরে মিছিলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়ি ও দফতরে ইডি-র তল্লাশির সময়ে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির প্রতিবাদে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফাইল চুরির অভিযোগ তুলে নবান্নে ধর্না দিতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উল্টো দিকে, একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট (সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার) শেয়ার করে ওই তল্লাশির নেপথ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
ইডি-র তল্লাশির পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের অবস্থানের কথা বলে বিরোধী নেতা শুভেন্দু রবিবার কোলাঘাটে বলেছেন, “ফাইল চুরি করেছেন (মমতা), তাই নবান্নের সামনে বসব। ওঁরা অবৈধ ভাবে না-জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে গিয়েছিলেন। আমি জানিয়ে যেতে চাই। পুলিশের কাছে ১৫, ১৬ জানুয়ারি চেয়েছি। একটা পুরো দিন বসতে চাই। যেখানে বলবে, সেখানেই বসব। পুলিশ উত্তর দেয়নি। আদালতে যাব।” ময়নাগুড়িতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও বলেছেন, “উনি (মমতা) তৃণমূল নেত্রী হিসাবে গিয়ে থাকলে, সঙ্গে মুখ্যসচিব ও ডিজি কেন গেলেন?”
পাশাপাশি, সর্বভারতীয় স্তরে মমতাকে নিশানা করা অব্যাহত রেখেছে বিজেপি। দলের সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী কী গোপন করতে চাইছেন? কয়লা-দুর্নীতির সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা রয়েছে। দরকার পড়লে বিষয়টা আমরা আরও সামনে আনব।”
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল একটি স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, যেখানে লেখা: ‘দাদা, আমাদের সূত্র অনুযায়ী, সহকারী ও ডেপুটি ডিরেক্টর পদমর্যাদার ১৩ জন ইডি আধিকারিক আগামী কাল সকালের উড়ানে (নির্দিষ্ট নম্বর দেওয়া) কলকাতায় আসবেন। মহারাষ্ট্র থেকে এক জন আগামী কাল দুপুরে কলকাতায় আসবেন। সাইবার বিশেষজ্ঞ গুলশন রাই রাতেই যাচ্ছেন।’ আরও লেখা, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব সাকেত কুমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কাল সিজিও কমপ্লেক্সে (ইডি-র দফতর) জরুরি বৈঠক হবে।’ কুণালের বক্তব্য, “ইডি-র গতিবিধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস থেকে নিয়ন্ত্রিত? খতিয়ে দেখা দরকার। সত্য হলে মারাত্মক।” প্রসঙ্গত, ইডি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে নয়। তারা কাজ করে অর্থ মন্ত্রকের রাজস্ব বিভাগের আওতায়।
তবে কুণালের ‘প্রশ্ন’ নিয়ে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা বলেছেন, “এটা যিনি সামনে এনেছেন, তিনি সারদা-র সব থেকে সুবিধাভোগী ব্যক্তি কুণাল। ওঁরা আদালতে গিয়েছেন, সেখানে দেখাবেন। চ্যাটটা এআই দিয়েও তৈরি হতে পারে। উনি নিজেই এটার দায়িত্ব নিচ্ছেন না।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে