বিজ্ঞানের আকাশে উজ্জ্বল হতে চান তারা! উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখাতেই ভর্তি হলেন তিনি।
মাধ্যমিকে পাঁচটি বিষয়ে লেটার মার্কস-সহ তারা প্রাপ্তি হয়েছিল দমদম সেন্ট্রাল জেলের বন্দিনী ঠাকুরমণি মুর্মু ওরফে তারার। উচ্চ মাধ্যমিকে ঠাকুরমণির বিজ্ঞান পড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তেমনই দাবি করেছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠেরা। সেই জটিলতা কাটিয়ে একদা শালবনী স্কোয়াডের ওই মাওবাদী নেত্রী রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়তে চলেছেন বলে কারা দফতর সূত্রে খবর। এক কর্তার কথায়, ‘‘সব কিছু মিটে গিয়েছে। বিজ্ঞান নিয়েই পড়বেন ঠাকুরমণি।’’
আগামী কিছুদিনের মধ্যে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয়ের সেন্টার শ্যামবাজার এ ভি স্কুলে ক্লাস শুরু করবেন ঠাকুরমণি। রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, জীববিদ্যা এবং গণিত নিয়ে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হয়েছেন বিনপুরের দহিজুড়ির কুসুমডাঙার বাসিন্দা। কয়েক দিনের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রয়োজনীয় বই হাতে পাবেন ঠাকুরমণি।
তবে একদা মাওবাদী নেত্রীর ঘনিষ্ঠদের দাবি, ‘আন্দোলন এবং অনুরোধ-উপরোধে’ই বিজ্ঞান পড়তে পারছেন ঠাকুরমণি। বিজ্ঞান পড়ার দাবিতে কয়েক দিন আগে জেলের অন্দরে অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন একদা মাওবাদী মিলিটারি কমিশনের রাজ্য সম্পাদক মনসারাম হেমব্রম ওরফে বিকাশের স্ত্রী। পাশাপাশি, তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, আন্দোলনের পাশাপাশি কারা দফতরের বিভিন্ন স্তরে অনুরোধ-উপরোধের মাধ্যমেই বিজ্ঞানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ঠাকুরমণি। সে প্রসঙ্গই তুলছেন এপিডিআর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জিত শূর। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়ম মেনে আবেদন করলে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বই পাচ্ছেন না বন্দিরা। কিন্তু অনশন করলে সংশ্লিষ্ট বন্দিই পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্ণব দামের পরে ঠাকুরমণিকেও অনশন করে পড়াশোনার সুবিধা আদায় করতে হল।’’