Beldanga unrest case

এনআইএ-র আর্জি মানল বিচার ভবন, বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় ধৃতদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ল

ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়েছিল বেলডাঙা। ১৬ এবং ১৭ জানুয়ারি সেখানে ‘সংগঠিত হিংসাত্মক’ ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৯
Share:

বেলডাঙায় অশান্তির দৃশ্য। —ফাইল চিত্র।

বিচার ভবনে বেলডাঙা মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার রিপোর্ট জমা করেছেন। আদালতে হাজির হন তদন্তকারী অফিসার। পরীক্ষা থাকার কারণে ধৃতদের এসকর্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষে। তাই শুনানিতে ভার্চুয়ালি হাজির করানো হয় ৩১ জন অভিযুক্তকে। অন্য ধৃত পাঁচ জন নাবালক হওয়ার তাদের শুনানিতে হাজির করানো হয়নি।

Advertisement

এনআইএর তরফ থেকে অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে রাখার আবেদন করা হয়। যেহেতু সব নথি হাতে আসেনি তাই জেল হেফাজতে রাখার আবেদন জানায় এনআইএ। আবেদন মেনে অভিযুক্তদের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসছে বলেই মামলাটি হাতে নিতে সক্রিয় হয়েছে এনআইএ।

প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ তারিখ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও।

Advertisement

বেলডাঙায় সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

এর পরে রাজ্যের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। বুধবার দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, এনআইএ তদন্তে তারা হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে কলকাতা হাই কোর্টকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচার ভবনের শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে বিচারক জানতে চান মামলার শুনানির উপর কোনও স্থগিতাদেশ রয়েছে কি না, রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ‘‘এ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement