—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আগামী বুধবার পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের তিথি ঘিরে ইতিমধ্যেই সাগরদ্বীপে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে তীর্থযাত্রীদের। রবিবার ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সাগরদ্বীপে পৌঁছোতে শুরু করেন। তবে শুক্রবার গঙ্গাসাগর মেলাপ্রাঙ্গণে পুলিশের অস্থায়ী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে প্রশাসন। কোনও রকম ঝুঁকি এড়াতে মেলাচত্বরের প্রতিটি বৈদ্যুতিক তার, সংযোগ এবং অস্থায়ী লাইন নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সুরক্ষার উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। দমকলকর্মীদের টহলও বাড়ানো হয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবু ও অস্থায়ী হোগলাপাতার ছাউনি নতুন করে নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে, যাতে তীর্থযাত্রী ও কর্মীদের থাকার কোনও অসুবিধা না হয়।
এ বছর কুম্ভস্নান না থাকায় গঙ্গাসাগরে তীর্থযাত্রীদের ঢল নামবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই কারণেই নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনও রকম ঢিলেমি রাখতে নারাজ কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপ ও সাগরে মেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছেন। পুলিশ, দমকল, স্বাস্থ্য ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সমন্বয়ে চলছে কড়া নজরদারি। প্রশাসনের লক্ষ্য, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ভাবে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর স্নান ও মেলা দর্শন সম্পন্ন করা। পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফেরি পরিষেবা সুষ্ঠু রাখা, ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সর্ব ক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং তীর্থযাত্রীরা নিরাপদে তাঁদের যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন। সব বিভাগকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।