Abhishek Banerjee

‘পাশে আছি’, এইআরও-দের কাছে যাচ্ছে অভিষেকের বার্তা

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে যখন সুপ্রিম কোর্টের নজর পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে বিশেষ ‘নজর’ রাখছেন অভিষেকও।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৩
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারি কর্মচারী সংগঠনও পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে। এ বার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) সরাসরি যুক্ত আধিকারিকদের অভয়-বাণী দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তরফে নির্ভয়ে কাজের বার্তা যেতে শুরু করেছে রাজ্যের সব এইআরও-দের ( অ্যাসিট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) কাছে।

এ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে যখন সুপ্রিম কোর্টের নজর পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে বিশেষ ‘নজর’ রাখছেন অভিষেকও। দলীয় সূত্রে খবর, ভোটার তালিকা তৈরির এই চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে জটিলতার কথা মাথায় রেখেই এইআরও-দের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া চলছে। এইআরএ-রা ফোন মারফত জানছেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে আছেন।’ সেই সঙ্গেই এইআরও-রা নির্ভয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তাঁর তরফে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অভিষেক নিজে নয়, এইআরও-দের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে প্রতিনিধির মাধ্যমে। এইআরও বা সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসারেরা ভোটার তালিকার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। এ বার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত এই এইআরও-দেরও নিশ্চিন্ত রাখার চেষ্টা করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিরোধীরা যদিও মনে করছে, শাসক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতার তরফে এইআরও-দের বার্তা আশ্বাসের মোড়কে আসলে ওই আধিকারিকদের উপরে ‘চাপ’ রাখার চেষ্টা।

সরকারের তরফে বা রাজনৈতিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদে প্রথম সারিতে আছেন। তবে সংগঠনকে গোড়া থেকেই এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিষেক। মিছিল, সভা, দিল্লিতে নির্বাচন সদনে দরবারের পাশাপাশি গণনা-পত্র বিলির পর্ব থেকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংগঠনকে ‘ছায়া’র মতো জুড়ে রেখেছেন তিনি। এসআইআর-এর কোন পর্যায়েকী ভাবে দলের স্বার্থ অটুট রাখা যায়, সেই পরিকল্পনায় তিনিই প্রধান। প্রতিটি স্তরে দলের উপদেষ্টা সংস্থার পরামর্শ কার্যকর করতে গত ৬ মাসে চারটি সাংগঠনিক বৈঠক করেও নেতা কর্মীদের তিনি বুঝিয়েছেন, কী ভাবে এসআইআর-এর ‘বিপদ’ আটকানো যায়।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছে, তাতে প্রথম সীমা খন্না নামে দিল্লির এক আমলার ভূমিকার কথা সামনে এনেছিলেন অভিষেক। এবং একাধিক বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) ওয়াটস্যাপ গ্রুপের নানা নির্দেশ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত পর্বের পর্যালোচনার আগে অভিষেকের তরফে এইআরও-দের কাছে এই ‘পাশে থাকা’র বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ স্তরের কর্তারা বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছেন। এবং তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত নীচের তলার আধিকারিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের দায়িত্ব তাঁদের সাহস জোগানো।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন