তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও। সোমবার দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের দিল্লির বাড়িতে গেলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। সোমবার দুপুরে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠকে তৃণমূলের সংসদীয় দল ভাঙার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, বৈঠকে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের ১১ জন লোকসভার সাংসদ।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, মথুরাপুরের বাপি হালদার। বৈঠকে ছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, কোচবিহারের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সরেন, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক এবং বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকার। বৈঠকে ছিলেন সদ্য তৃণমূল এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ও।
ভূপেন্দ্র কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দলীয় পর্যবেক্ষক। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল সাফল্যের নেপথ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন দলের অনেকেই। সোমবার দুপুরে সেই ভূপেন্দ্রর বাসভবনেই পৌঁছে যান তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। ঘটনাচক্রে, সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোটকে এককাট্টা করতে বৈঠকে বসেছেন সনিয়া-রাহুল-মমতারা। আর তার অনতিদূরেই নতুন রাজনৈতিক পথের সলতে পাকাচ্ছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। তৃণমূলের সংসদীয় দলে যে ভাঙন ধরছেই, তা কার্যত নিশ্চিত। তবে বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ঠিক কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ একটি সূত্রের দাবি, সোমবার ভূপেন্দ্রর বাসভবনে হওয়া বৈঠকে যে ১১ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বাইরেও বেশ কয়েক জন বিজেপির সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ রেখেছেন।