রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। — ফাইল চিত্র।
পূর্ব ঘোষণামতোই রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চাইল তৃণমূল।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গে আসা সংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়ে গিয়েছে জনজাতি উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নাপ্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ধর্না-মঞ্চ থেকে কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইতেও নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় নেতাদের। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রের খবর, দেখা করার সময় চেয়ে গত ৯ তারিখ মুর্মুকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। সেই চিঠির জবাব এখনও আসেনি বলে জানিয়েছে তৃণমূল শিবির।
গোটা রাজ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন করতে পরিকাঠামো নির্মাণ, জীবনযাত্রায় সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে ‘মাইলফলক পদক্ষেপগুলি’ করেছে তা রাষ্ট্রকে জানানো হবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, চিঠিতে রয়েছে, ‘এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্য সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের জীবনের মান বাড়ানোর জন্য একের পর এক উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমুখী পদক্ষেপ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সমাজের সমস্ত অংশকে সঙ্গে নিয়ে যে উন্নয়ন রাজ্য সরকার করেছে তা গর্বের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।’ আরও জানানো হয়েছে, ১২ থেকে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি মুর্মুর সময়মতো তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চায়। চলতি সপ্তাহেই সময় চেয়েছেন ডেরেক।
২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫.৮% ছিল তফসিলি জনজাতি। স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। উত্তরবঙ্গের গোঁসাইপুর থেকে রাষ্ট্রপতি যে ভাবে জনজাতি কল্যাণের প্রশ্নে তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভোটের মুখে তা স্বস্তিজনক নয় তৃণমূলের কাছে। রাষ্ট্রপতি নিজে জনজাতিরওপ্রতিনিধি। বিজেপি বিষয়টিকে প্রচারে নিয়ে এসে ফায়দা তোলার চেষ্টা করবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলিতে। তাই তাঁর বক্তব্যের পাল্টা বয়ান তৈরি করা জরুরি তৃণমূলের কাছে। সেটা বাইরে না বলে সরাসরি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছেন দলীয়নেতৃত্ব। তবে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে তৃণমূলের অপেক্ষাকে দীর্ঘায়িত করা হয় কি না, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে