রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। — ফাইল চিত্র।
আদিবাসী সমাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী কী করেছে, তার খতিয়ান দিতে আবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি পাঠাল তৃণমূল। সোমবার এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় দেওয়া হোক। এর আগে দু’বার একই মর্মে রাইসিনা হিল্সে চিঠি পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। তবে দু’বারই তাদের আর্জি খারিজ হয়ে যায়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ জমা দিতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের। রাষ্ট্রপতির সময় চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা। সেই নির্দেশ মতো গত ৯ মার্চ রাষ্ট্রপতিকে প্রথম চিঠি লেখে তৃণমূল। ১২ থেকে ১৫ জন দলীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল। ১১ মার্চ সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সে দিনই আবার নতুন করে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ চেয়ে আবেদন করা হয়। তৃণমূল সাংসদদের সেই আবেদনও আবার খারিজ করে দেয় রাইসিনা হিল্স। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়, সময়ের অভাবে আবেদন গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তার পরে সোমবার তৃতীয় বার আবেদন করা হয়।
গত ৭ মার্চ আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে যেখানে তাঁর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেই স্থান পরিবর্তন করা হয়। নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। কেন মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি, সেই প্রশ্নও তোলেন। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে রাষ্ট্রপতির অপমানের অভিযোগ তোলে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বার বার এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে আক্রমণ করেন।
সেই আবহে পশ্চিমবঙ্গের জনজাতি কল্যাণ নিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলায় কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকেই গর্জে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ করেছিলেন, বিজেপির কথায় চলছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর সফরে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি বলেও দাবি করেন মমতা। এর পরেই দলকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।