জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। — ফাইল চিত্র।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নতুন দলে যোগ দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তরে এনডিএ বা বিজেপির সঙ্গে ‘সমঝোতা’র পরেও নিচু তলার বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ তাতে সামলানো যাচ্ছে না। বিড়ম্বনায় পড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বার্তা পাঠাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একাংশ।
বিক্ষোভের আশঙ্কায় বাড়ি যেতে না-পেরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কলকাতায় ফিরে তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে সমর্থন করার পরেও তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য সিতাইয়ের স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা প্রকাশ্যেই ঘুরছেন। তাঁর এক আত্মীয়, তৃণমূল নেতা অনিমেষ বসুনিয়ার বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ও দিল্লির বিজেপি নেতাদের কাছে অভিযোগ জানাতে চান।
সূত্রের খবর, নতুন দলে যোগ দেওয়া আরও তিন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায় কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেছেন। সাংসদ তহবিলের বাইরেও স্থানীয় এলাকায় উন্নয়নের আটকে থাকা কাজে গতি আনার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে, বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যাতে কোনও রকম আক্রমণের মুখে না পড়েন, তা-ও সরকারকে দেখার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সাংসদ জগদীশ বলেছেন, ‘‘রাজ্যে পরিবর্তন হয়েছে, আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এনডিএ সরকারকে আমরা সমর্থন করেছি। বিজেপি নেতৃত্ব যে ভাবে বলেছেন, সে ভাবেই কাজ করেছি। তার পরেও আমরা বাড়ি ফিরতে পাচ্ছি না। বিষয়টি বিজেপি নেতৃত্বকে জানাব।’’ তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন জগদীশ। রাজ্যে পরিবর্তনের পরে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন তিনি। আর তাঁর স্ত্রী, কোচবিহারের একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষে গিয়েছেন। প্রায় দেড় মাস পরে গত মঙ্গলবার কোচবিহারে ফিরলেও বিক্ষোভের আশঙ্কায় সিতাই যেতে পারেননি জগদীশ। বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী অবশ্য বলেছেন, ‘‘তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময়ে উনি অনেক অনৈতিক কাজ করেছেন। তার জেরে অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ। বিজেপি কর্মীরা কোথাও কোনও বিক্ষোভে শামিল হননি। সাধারণ মানুষের দায়িত্ব তো আমরা নিতে পারি না!’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে