শহরে টোটো নিষিদ্ধ, জানাল পরিবহণ দফতর

টোটোর পায়ে বেড়ি পরাচ্ছে পরিবহণ দফতর। কলকাতা পুলিশকে সম্প্রতি তারা জানিয়ে দিয়েছে, কলকাতা শহরে টোটো দেখলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মূলত বাড়তি যানজটের আশঙ্কা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে দফতর সূত্রে খবর। এর ফলে হাতে টানা রিকশার পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

অত্রি মিত্র

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৬ ০১:১৮
Share:

টোটোর পায়ে বেড়ি পরাচ্ছে পরিবহণ দফতর। কলকাতা পুলিশকে সম্প্রতি তারা জানিয়ে দিয়েছে, কলকাতা শহরে টোটো দেখলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মূলত বাড়তি যানজটের আশঙ্কা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে দফতর সূত্রে খবর। এর ফলে হাতে টানা রিকশার পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

চালকের লাইসেন্স নেই, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নেই, ব্যাটারিতে চলে— এমন গাড়ি হাওড়া, কলকাতা, নিউ টাউন-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে পড়লেও কে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে বিস্তর টানাপড়েন শুরু হয়েছিল আগেই। রাজ্য সরকার প্রথমে ঠিক করে, পঞ্চায়েত, পুরসভার মতো স্থানীয় প্রশাসনগুলি টোটোকে লাইসেন্স দেবে। কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে সিদ্ধান্ত হয়, টোটোর লাইসেন্স দেবে পরিবহণ দফতরই। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই রাজ্যের মোটর ভেহিক্‌লস আইন এবং বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও করেছে রাজ্য।

সংশোধিত আইনে মূলত শহরের সঙ্গে মূল সড়কের সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে টোটো চলার কথা। নিয়মানুযায়ী, ওই গাড়িতে কোনও অবস্থাতেই চার জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। চালকের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স থাকা এবং তিন বছর অন্তর তা নবীকরণ করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষা করাতে হবে গাড়ির স্বাস্থ্যেরও। এ ছাড়া গাড়ির মোটরের শক্তিও বেঁধে দেওয়া হয়েছে দু’হাজার ওয়াটের মধ্যে। পরিবেশবান্ধব বলে রাজ্যগুলিকে টোটোর রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

Advertisement

কিন্তু কলকাতা শহরের প্রতি বছরই হাজারে-হাজারে গাড়ি বেড়ে চলেছে। সেই অনুপাতে বাড়ছে না রাস্তার পরিমাণ। সাধারণত বিশ্বের উন্নত শহরগুলিতে রাস্তার পরিমাণ হওয়া উচিত শহরের আয়তনের অন্তত ২০-২৫ শতাংশ। সে জায়গায় কলকাতায় রাস্তার পরিমাণ শহরের আয়তনের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ। রাজ্য পরিবহণ দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘এই অবস্থায় কলকাতা শহরে টোটো ঢুকলে আর দেখতে হবে না। এমনিতেই শহরে অটোর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। এর সঙ্গে টোটো যোগ হলে অশান্তি আরও বাড়বে।’’ ওই কর্তা জানান, সম্প্রতি হাতে টানা রিকশার পরিবর্তে টোটো চালুর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিল সরকার। কিন্তু যানজটের কথা চিন্তা করে আপাতত সেই ভাবনা মুলতুবি রাখারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই কর্তা বলেন, ‘‘এক বার কোনও ছুতোয় ঢুকে পড়লে তখন আর আটকানো যাবে না। সে কারণেই ঠিক হয়েছে, আপাতত কলকাতা শহরে টোটো ঢুকবেই না।’’

কিন্তু তা সত্ত্বেও বেহালা-সহ দক্ষিণ শহরতলি এলাকাগুলিতে বিচ্ছিন্ন ভাবে টোটোর উপস্থিতি চোখে পড়তে শুরু করেছিল। এ নিয়ে গত তিন-চার মাসে বেশ কিছু অভিযোগও জমা পড়ে কলকাতা পরিবহণ দফতরের কাছে। কিন্তু পরিবহণ দফতরের নির্দিষ্ট নির্দেশ না থাকায়, টোটো আটক করা উচিত কি না, তা নিয়ে ধন্দে ছিল পুলিশও।

পরিবহণ দফতরের নয়া সিদ্ধান্তের পরে টোটোর জন্য শহর কলকাতার দরজা বন্ধ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement