Mamata Banerjee On Renaming of Kerala

‘বিজেপি-সিপিএম যোগ এখন আর অলিখিত নয়’! কেরলের নাম বদলের পর মমতা বললেন, ‘বাংলা’-ও আদায় করে ছাড়বেন

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঠিকানা সাউথ ব্লক থেকে সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে যাওয়ার পর সোমবারই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসেছিল সেখানে। আর সেই বৈঠকেই কেরলের নতুন নামকরণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল ভারত সরকার।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৮
Share:

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

কেরলে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও হয়নি। দক্ষিণের রাজ্যের নাম পরিবর্তিত হয়ে কেরলম হওয়ার পরে এ বার প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, কেরলে বিজেপি এবং সিপিএমের ‘যোগের’ কারণেই নাম পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সেই ‘যোগ এখন লিখিত’। অথচ বাংলাকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। তবে তবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ আদায় করেই ছাড়বেন, এ-ও জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি কেরলবাসীকে তাঁদের দীর্ঘ দিনের দাবিপূরণের জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন।

Advertisement

ভোটমুখী কেরলের নতুন নাম ‘কেরলম’-এ মঙ্গলবার সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তার পরেই মমতা বলেন, ‘‘আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে ওয়াই-জ়েডে পড়ে থাকতে হয় কেন? আমাদের রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা যখন পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কোথাও গেলে আমাকে সবার শেষে সুযোগ দেওয়া হয় এই নামের বর্ণানুক্রমে।’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন— সব ভেবে রাজ্যটার নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু’ থেকে তিন বার প্রস্তাব পাশ করেছি। আপনারা দেননি।’’

মমতার কথায়, ‘‘এক বার যখন দিলাম (প্রস্তাব), ওরা বলল, আপনারা নামটাকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষায় এক শব্দ এক করে দিন। তখন আমরা আবার বিধানসভায় পাশ করালাম (নতুন প্রস্তাব)। হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা— তিন ভাষাতেই বাংলা করা হয়।’’ মমতা জানান, তার পরেও সেই নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র। তিনি জানান, তার পরে যত বার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, যখন এখানে বৈঠক করতে এসেছেন, তখন সেই বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘কেন জানি না! ওরা (বিজেপি সরকার) বাংলাবিরোধী বলেই আমার মনে হয়। ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। বাংলা কথাটা নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য বলে। কিন্তু ওরা বাংলাবিরোধী। সেই জন্য বাংলা নামটা করল না।’’

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্য রাজ্যের নাম পরিবর্তন নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, ‘‘অন্য রাজ্যের নাম পরিবর্তন করুক। আমরা ফ্লেক্সিবল। আমরা কোনও রাজ্যের বিরোধী নেই। সব রাজ্যকে ভালবাসি।’’ তবে কেন কেরল অনুমোদন পেয়েছে, তার কারণও জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা (কেরল সরকার) পেয়ে গেল, কারণ আজ কেরলে বিজেপির সঙ্গে সিপিএমের জোট গড়ে উঠছে বলে। অলিখিত যোগ নয়, এটা এখন লিখিত যোগ। আজকের ঘটনা তার প্রমাণ।’’ মমতার প্রশ্ন, ‘‘বাংলা বঞ্চিত হবে কেন বার বার?’’ তবে তিনি অনড়, রাজ্যের নাম পরিবর্তনে অনুমোদন তিনি ঠিক ছিনিয়ে আনবেন। তাঁর কথায়, ‘‘এক দিন তো আপনারা চলে যাবেন! বাংলার নামটা কিন্তু আমরা আদায় করে ছাড়ব।’’

ভোটমুখী আর এক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের তরফেও ২০১৮ সালে রাজ্যের নামবদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের প্রস্তাব ছিল, পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে ‘বাংলা’ করা হোক। তবে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে যুক্তি দেওয়া হয় যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে রাজ্যের প্রস্তাবিত নাম প্রায় এক হয়ে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আবার প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে গিয়েছে, এমন খবরও নেই।

রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে গেলে সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। তার পর সেই প্রস্তাব বা আর্জি খতিয়ে দেখে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই বিষয়ে ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগ, গোয়েন্দা দফতরের মতামতও জেনে নেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে তা বিল আকারে সংসদে পেশ করা হয়। সেখানে ওই বিল পাশ হওয়া পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ হয়। সে ভাবেই কেরলের নতুন নাম অনুমোদন পেল।

কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকারের আর্জি ছিল যে, সব ভাষায়, এমনকি সংবিধানের অষ্টম তফসিলেও কেরলের নাম কেরলম করা হোক। কেরল সরকারের প্রস্তাবে নামবদলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয় যে, মালয়লম ভাষায় রাজ্যের নাম কেরলম-ই। ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগঠন হলেও সংবিধানের প্রথম তফসিলে রাজ্যের নাম কেরল রাখা হয় বলে ওই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার পরেই সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের নাম পরিবর্তনে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন তিনি আদায় করে ছাড়বেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement