মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণনা চালু করার জন্য দিল্লি থেকে চিঠি এসেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকারের কাছে। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি, চিঠির জবাবও দেয়নি। শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে জনগণনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জনগণনা নিয়ে তাঁর পূর্বসূরির সরকারের ভূমিকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক কারণে জনগণনার কাজ শুরু করেনি আগের সরকার। পূর্বতন মুখ্যসচিব জনগণনা নিয়েও রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় ছিলেন। আগের সরকার জনগণনার কোনও কাজ না-করার ফলে অন্য রাজ্যগুলি অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’’ সেই খামতি ঢাকতে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে জানিয়ে শুভেন্দু শুক্রবার বলেন, ‘‘দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি ১১ মে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার মধ্যে ছিল জনগণনার কাজ শুরু করা।’’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার কাজ শুরু হবে। চলবে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জনগণনা সংক্রান্ত গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন ‘সেন্সাস ডিরেক্টর’ রশ্মি কোমল। ১ থেকে ১৫ অগস্ট তথ্য জমা নেওয়ার চলবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জানানোর জন্য দু’টি টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন শুক্রবার। জানিয়েছেন, এই প্রথম বার জনগণনা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। প্রসঙ্গত প্রায় ১৫ বছর পরে অনুষ্ঠিত জনগণনায় এ বার সরকারি কর্মচারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন নিজেদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তাঁদের জন্য বিশেষ একটি অ্যাপ থাকবে। সংগৃহীত তথ্য সেই অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ সেই অ্যাপ তৈরির কাজ শেষের মুখে।
নবান্নের সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘‘জনগণনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।’’ জনগণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের নাগরিকের সাহায্যও চেয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কোনও বেড়া নেই। তাই অনুপ্রবেশের মাধ্যমে জনবিন্যাসের চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে ওই এলাকাগুলিতে। তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না-থাকলেও আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই জনগণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’’ পূর্বতন তৃণমূল সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি চৌকি এবং বেড়া বসানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি না দেওয়ায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘কী ভাবে লোক ঢুকেছে তা আপনারা টিভিতে দেখেছেন।’’