দাম নেই ফসলের, চাষির জন্য তহবিল

খরচের থেকে অনেক কম দামেই ফসল বিক্রি করতে হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষের বাজেটে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গড়তে চলেছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৬:৩৫
Share:

প্রতীকী ছবি।

টোম্যাটো চাষে খরচ হল বিঘে পিছু ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টোম্যাটো বিক্রি করতে গিয়ে চাষি দেখলেন খরচের অর্ধেক টাকাও উঠছে না। দাদন নিয়ে টোম্যাটো চাষ করে শেষ পর্যন্ত দেনার দায়ে চাষির তখন ভিটে-মাটি বেচার অবস্থা হয়। শুধু টোম্যাটোই বা কেন, একই পরিস্থিতিতে পড়েন আলু থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও আনাজ চাষিরাও। খরচের থেকে অনেক কম দামেই ফসল বিক্রি করতে হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষের বাজেটে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গড়তে চলেছে।

Advertisement

বুধবার বিধানসভায় আগামী আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানান, খাদ্যশস্য বা আনাজের অধিক ফলন হলে অনেক সময়ই বাজারে তার দাম কমে যায়। চাষিরা তখন কম দামেই ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বিশেষ তহবিল গড়া হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ছ’বছরে রাজ্যে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন খাদ্যশস্যের রেকর্ড উৎপাদন হচ্ছে। আনাজ উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ অনেক এগিয়ে। আলু উৎপাদনেও এ রাজ্য দ্বিতীয় বলে অমিতবাবু জানান।

চাষিদের স্বার্থে রাজ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অন্য চাষের ক্ষেত্রে সার, বীজ, মাটি পরীক্ষার মতো বিষয়ে সরকারি সাহায্য মিললেও, ফসলের ন্যায্য দাম না-পাওয়া রুখতে কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে বহু চাষি আনাজ চাষ ছেড়ে অন্য পেশা বেছেছেন। অনেকে উৎসাহ হারিয়ে আনাজের জমিতে কুল, কলা বা আম বাগান করেছে। সরকারের এই তহবিল নতুন করে বহু চাষিকে আবার আনাজ চাষে ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement