—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
প্রতি বছর লাফিয়ে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। নিত্যনতুন প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু এই সব গাড়িগুলিতে কোনও যান্ত্রিক সমস্যা বা ত্রুটি দেখা দিলে তা সারাই করে তোলার প্রযুক্তি জানা গ্যারেজকর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। তাই এ বার গ্যারেজকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে যৌথ ভাবে উদ্যোগী হল রাজ্য পরিবহণ, শ্রম এবং কারিগরি শিক্ষা দফতর। মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে যেসব প্রযুক্তিতে গাড়ি তৈরি হয় সেই সব বিষয়গুলিকেই যুক্ত করা হয়েছে। দু’চাকা ও তিন চাকার যানবাহনের পাশাপাশি, এলপিজি, সিএনজি, ইভি চালিত যান, গাড়ি রং করা, অটো সার্ভিস এবং অটো ওয়ার্কশপ মেকানিক— এরকম নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এমনকি বড় লরি, ট্রাক সারানোর প্রযুক্তিও হাতে-কলমে শেখানো হবে গ্যারেজকর্মীদের।
পরিবহণ দফতর একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রতি বছর ১০ লক্ষ গাড়ি পরিবহণ দফতরে নথিভুক্ত করা হয়। অঙ্কের হিসাবে প্রতি ১৫ বছর ধরে দেড় কোটি গাড়ির জন্য কোনও না কোনও সময় ধারাবাহিক ভাবে গ্যারেজকর্মীর প্রয়োজন পড়ে। বহু ক্ষেত্রে দক্ষ গ্যারেজকর্মী না থাকায় সমস্যায় পড়েন গাড়ির মালিকেরা। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে যদি দক্ষ গ্যারেজকর্মী তৈরি করা যায়, তবে বেসরকারি গাড়ির মালিকেরা বহু অংশে লাভবান হবেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের একটি দিক উন্মোচিত হবে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার। তাই পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলের উপস্থিতিতে নতুন এই কর্মসূচির সূচনা করেছে রাজ্য সরকার। প্রায় ৫০০ গ্যারেজের মালিককে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মঙ্গলবারের সভায় হাজির করানো হয়েছিল।
এই প্রশিক্ষণ পেতে এক একজন গ্যারেজ কর্মীকে ৫০ থেকে ৭০০ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে মিলবে সরকারি শংসাপত্র। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। অথচ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি গাড়ি সারাই করার গ্যারেজ কর্মী বা মেকানিক সেভাবে পাওয়া যায় না। সেই ভাবনা গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্তরে চলছিল। তাই পরিবহণ, শ্রম এবং কারিগরি শিক্ষা দফতর এক সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেছে। আমরা আশা করব, এই পদ্ধতিতে যেমন বেসরকারি গাড়ির মালিকদের যেমন সুবিধা হবে তেমনি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা খুলে যেতে পারে।’’