I-PAC Case Hearing

সরকারের কি মৌলিক অধিকার থাকে? রাজ্য সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে দিল আইপ্যাক মামলায়, সুপ্রিম কোর্টে কী কী হল বুধবার

রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে গেলে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন থাকতে হবে। কিন্তু তা শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ব্যক্তির বাইরে কারও মামলা করার কোনও অধিকারই নেই।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৪৩
Share:

ইডির মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তুলল রাজ্য। —ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল রাজ্য। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মূলত তিনটি আইনি প্রশ্ন তুলে এই মামলায় সওয়াল করেন রাজ্যের আইনজীবীরা। তাঁদের প্রশ্ন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে ইডি কি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে? সরকারি সংস্থা হয়েও কি তারা মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারে? তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় সংস্থা হয়েও কী ভাবে ইডি সরকারের বিরুদ্ধেই মামলা করতে পারে, তা নিয়েও রাজ্যের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়।

Advertisement

রাজ্যের বক্তব্য, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ব্যক্তির হতে পারে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কী করে এই অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলতে পারে? রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করতে গেলে মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন থাকতে হবে। কিন্তু তা শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ব্যক্তির বাইরে কারও মামলা করার কোনও অধিকারই নেই।” মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিওয়ান এ-ও বলেন যে, “এখানে ইডি মানে কেন্দ্রীয় সরকার মামলা করেছে। ফলে আদালতকে দেখতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার আদৌ অভিযোগ করতে পারে কি না যে, কোনও রাজ্য সরকার তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।”

কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ হয়েও মামলায় ইডি কেন্দ্রকেও পক্ষ (পার্টি) করেছে। রাজ্যের বক্তব্য, কেন্দ্রের একটি বিভাগ হয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করে স্ববিরোধী কাজ করেছে ইডি। রাজ্যের আইনজীবী দিওয়ান বলেন, “ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ। এখানে মামলা করেছেন ইডির ডিরেক্টরেট। ফলে আইনের মধ্যে থেকেই কোনও ডিরেক্টরেটকে মামলা করতে হবে।” রাজ্যের আইনজীবী দিওয়ান জানান, যদি কোনও সরকারি দফতরকে সরাসরি মামলা দায়ের করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের যে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে যাওয়া হবে।

Advertisement

তবে এই মামলা ভারত সরকার করতে পারত জানিয়েছেন দিওয়ান। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ১৩১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা করতে পারত ইডি। কিংবা এফআইআর করতে পারত তদন্তকারী সংস্থাটি। ইডির এক্তিয়ার স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিওয়ান এ-ও জানান যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ওই সংস্থাকে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ-তে কিছু দায়িত্ব এবং ক্ষমতা দেওয়া হলেও, মামলা করার অধিকার দেওয়া হয়নি। সিবিআই, সিআইডি-সহ বেশ কয়েকটি তদন্তকারী সংস্থার নামোল্লেখ করে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, তাদের কারও মামলা করার কোনও অধিকার নেই। এই সংস্থাগুলি পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করতে থাকলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে সওয়াল করেন তিনি।

বিচারপতি মিশ্র বলেন, “মামলা করার অধিকার কার রয়েছে, তা নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে ঢুকে পড়েন, তা হলে ইডি কী করবে? এর পরে তো অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও ঢুকে পড়লে কিছু করা যাবে না। এটা মোটেও সুখকর পরিস্থিতি নয়। একেবারেই অনভিপ্রেত ঘটনা।” বিচারপতির প্রশ্ন, “যদি ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনেও পিটিশন গ্রহণযোগ্য না হয়, আর ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনেও না হয়, তবে এই বিষয়টি বিচার করবে কে? ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রীও এ ভাবে অন্য কোনও দফতরে প্রবেশ করেন, তখন তার বিচার কী ভাবে হবে?”

মামলায় আর এক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কেও পক্ষ করেছে ইডি। এই ভাবে একটি তদন্তকারী সংস্থা অন্য সংস্থাকে পক্ষ করতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “ইডি আসলে চাইছে আদালত যেন সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইডি নিজে থেকে এমন দাবি করতে পারে না।” মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত ইডির অভিযোগও খারিজ করে দেন তিনি। বিচারপতি বলেছিলেন, “ইডি অফিসারেরা হুমকির মুখে পড়েছেন।” তার প্রেক্ষিতে সিব্বল বলেন, “ধরুন, তাদের সত্যিই হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা হলেও এখানে কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে?” দিওয়ানের সুরেই আদালতে সিব্বলের প্রশ্ন, “প্রধানমন্ত্রীর অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনের বাইরে ইডির কোনও ক্ষমতা নেই। তবে তারা কোন মৌলিক অধিকারের দাবি করছে?” আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ফের আইপ্যাক মামলার শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি সকালে বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। অন্য দলটি গিয়েছিল লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। তাদের দফতরে ইডির হানার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement