কমিশন বানিয়ে স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের চিন্তা

সরকারি অনুদানে চলা কলেজের উপরে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আরোপের নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা দফতর এক রকম নিয়ে ফেলেছে। এক ধাপ এগিয়ে সোমবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিচালন সমিতির ক্ষমতা খর্ব করার পথে হাঁটতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০১৬ ০৪:২০
Share:

সরকারি অনুদানে চলা কলেজের উপরে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আরোপের নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষা দফতর এক রকম নিয়ে ফেলেছে। এক ধাপ এগিয়ে সোমবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিচালন সমিতির ক্ষমতা খর্ব করার পথে হাঁটতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

Advertisement

এবং সেই লক্ষ্যে এ ধরনের স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এক ছাতার তলায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। যে কারণে একটি পৃথক কমিশন গঠনের চিন্তা শিক্ষা দফতরের মাথায় আছে। একই ভাবে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজেও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কমিশনের আওতায় আনার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে উচ্চশিক্ষা দফতরের খবর।

এ দিন বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়ার প্রশ্নের উত্তরে কমিশন গঠনের ভাবনার কথা জানান পার্থবাবু। পরে তিনি বলেন, বর্তমান নিয়মে স্কুল পরিচালন সমিতি শিক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব পাঠালে সরকার অনুমোদন দেয়। কিন্তু পরিচালন সমিতি মারফত এই বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে নানা মহলে নানা প্রশ্ন। স্বজনপোষণেরও বিস্তর অভিযোগ। অন্য দিকে সরকার চাইছে প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা আনতে। কমিশন গড়ে স্কুলে শিক্ষাকর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা যাবে বলে সরকার আশাবাদী।

Advertisement

বিরোধীরা অবশ্য একমত নন। তাঁদের বক্তব্য, কমিশন গড়লেও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের দরজা বন্ধ করা যাবে না। উল্টে হস্তক্ষেপ বিক্ষিপ্ত ভাবে না-হয়ে ‘কেন্দ্রীয় ভাবে’ হবে। মানসবাবুর কথায়, ‘‘এখন গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের যুগ। সরকার এই পথে হাঁটলে শিক্ষায় গণতন্ত্রের বিকাশ ধাক্কা খাবে।’’ তাঁর আক্ষেপ, ‘‘শিক্ষায় অনিলায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। অথচ বন্ধ হওয়ার বদলে তা ক্রমশ ফুলে-ফেঁপে উঠছে!’’ এ দিকে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দেখে কলেজ সার্ভিস কমিশন। সেখানে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের অধিকার মূলত কলেজের পরিচালন সমিতির হাতে। বর্তমান নিয়মে কলেজ থেকে দফতরকে জানানো হয়, শিক্ষাকর্মীর ক’টা পদ খালি। দফতর লোক নেওয়ার অনুমতি দিলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে যোগ্য প্রার্থীর নাম জোগাড় করেন। পাশাপাশি অন্তত দু’টো সংবাদপত্রে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তার পরে আবেদনপত্র বাছাই করে নিয়োগ চূড়ান্ত করে পরিচালন সমিতি।

দফতর-সূত্রের খবর, এই রেওয়াজ ভেঙে এ বার গোটা প্রক্রিয়াটি নিজেদের এক্তিয়ারে আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। তাই সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের পাশাপাশি এ ধরনের সব কলেজেও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে। ‘‘এমনও হতে পারে, একই কমিশনের মাধ্যমে সরকারপোষিত স্কুল ও কলেজে শিক্ষাকর্মী নেওয়া হবে।’’— মন্তব্য এক সূত্রের।

অবসরের বয়স

রাজ্যের স্কুল-শিক্ষকদের অবসরের বয়ঃসীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। এ দিন বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। পরে তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাঁদের কয়েক জনকে সরকার ফের কাজে লাগাতে ইচ্ছুক। অবসরের পরে ছ’মাসের জন্য তাঁদের নিয়োগ করা হবে। তবে শিক্ষা দফতরের আওতাধীন তিনটি পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের অবসরের বয়ঃসীমা ৬২ থেকে ৬৫ করার ভাবনা-চিন্তা চলছে। আপাতত শুধু কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের অবসরের বয়স ৬৫।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement