SIR in West Bengal

প্রসবের দিনই এসআইআর শুনানির ডাক! দুশ্চিন্তায় অন্তঃসত্ত্বা, পরিবারের আবেদনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা তৃণমূলের

পুতুলের স্বামী বাপন দাস ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রীকে শুনানিকেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি যেতে পারেননি। আবার মঙ্গলবার ডাকা হয়েছে স্ত্রীকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩২
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

চিকিৎসক জানিয়েছিলেন প্রসবের সম্ভাব্য দিন। ঠিক ওই দিনই অন্তঃসত্ত্বাকে এসআইআরের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত মুর্শিদাবাদের কান্দি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুতুল দাস এবং তাঁর পরিবার। সন্তান প্রসব না কি ভোটার তালিকায় নাম টেকানোর জন্য হাজিরা, আগে কোন কোথায় যাবেন, তা ভেবেই দিশাহারা বধূর পরিবার।

Advertisement

প্রায় একই রকম ছবি মুর্শিদাবাদের কান্দি ব্লকের মহালন্দি পঞ্চায়েতেও। সেখানে ৭১ বছরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং শয্যাশায়ী মাকসুরা বিবিকে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে শুনানিকেন্দ্রে হাজির দিতে হবে শুনে দুশ্চিন্তায় দুই পরিবার। কান্দি মহকুমার দুই পরিবারের অবস্থা প্রায় এক। দুই ঘটনা নিয়ে কমিশনের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করেছে তৃণমূল। তারা জানাচ্ছে, এলাকার বিধায়ক এবং পুরসভার তরফে দুই নাগরিককে সাহায্য করা হচ্ছে।

পুতুলের স্বামী বাপন দাস ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রীকে শুনানিকেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি যেতে পারেননি। আবার মঙ্গলবার ডাকা হয়েছে পুতুলকে। কিন্তু সে দিনই ‘ডেলিভারির ডেট।’ বাপন বলেন, ‘‘চিকিৎসক ওকে হাসিখুশি থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু নোটিস আসার পর থেকে তো সকলের মুখ থেকে হাসি উবে গিয়েছে। এমন শারীরিক অবস্থা নিয়ে কী ভাবে শুনানিকেন্দ্রে যাবে ও? আর না গেলে তখন কী হবে, এই দুর্ভাবনায় পাগল হয়ে যেতে বসেছি।’’ অন্তঃসত্ত্বা পুতুল বলেন, ‘‘এই অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব। কী হবে সত্যিই জানি না।’’

Advertisement

প্রশাসনের ‘অনমনীয় নিয়মের’ জন্য লাখো লাখো মানুষ প্রবল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন কান্দির তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তিনি জানান, ওই দুই পরিবারই সাহায্য চেয়ে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছিল। তাঁরা যথাসাধ্য সাহায্যের চেষ্টা করেছেন। জানা যাচ্ছে, বিধায়ক তথা কান্দি পুর কর্তৃপক্ষ ওই অন্তঃসত্ত্বা বধূ এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেছেন। অ্যাম্বুল্যান্স করেই দু’জনকে শুনানিকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। শুক্রবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বৃদ্ধাকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বার জন্য। বিধায়ক বলেন, “চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। চেষ্টা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার দুপুরের আগেই শুনানির কাজ মিটিয়ে নিতে, তার পরেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্স তৈরি রাখা হবে।” কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক জানিয়েছেন, বৃদ্ধার জন্য শুক্রবার এবং পুতুল দাসের জন্য মঙ্গলবার বিনামূল্যে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement