ভুটভুটি নয়, আসছে আধুনিক নৌকা

পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, এই নৌ-যানগুলি তিন রকমের হবে। যা কাঠ, ফাইবার ও ইস্পাতের। ৪০ আসনের কাঠের ওই নৌ-যানের ন্যূনতম দাম হবে সাড়ে ন’লক্ষ টাকা। ইস্পাতের তৈরি ৬০ আসনবিশিষ্ট নৌকার দাম হবে ১৪ লক্ষ টাকা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৬:৪০
Share:

নদীতে যাত্রী পারাপারে আর নিরাপত্তাহীন ভুটভুটি নয়। এ বার অনুমোদিত নকশার ভিত্তিতে তৈরি যন্ত্রচালিত নৌকাগুলি চালাতে হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে তা কার্যকর হবে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি হাওড়ায়। যাঁরা এই নয়া নৌ-যান কিনবেন রাজ্য সরকারের ‘জলধারা’ প্রকল্প থেকে তাঁদের এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঋণ পেতেও সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।

Advertisement

বৃহস্পতিবার হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে জেলা প্রশাসনের এক কর্মশালায় হাওড়ার ফেরিঘাটের লিজ গ্রহীতাদের ডেকে সে কথা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পরিবহণ দফতরের যুগ্মসচিব মিত্র চট্টোপাধ্যায়, জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী, হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অভিজিৎ লাটুয়া-সহ অন্যরা। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, রাজ্যে পরপর নৌকাডুবির ঘটনায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০১৮-র পর থেকে আর যন্ত্রচালিত ভুটভুটি চলবে না। পরিবর্তে জলপথে চলবে আধুনিক যন্ত্রচালিত নৌকা।

কেমন হবে এই নতুন নৌ-যান?

Advertisement

পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, এই নৌ-যানগুলি তিন রকমের হবে। যা কাঠ, ফাইবার ও ইস্পাতের। ৪০ আসনের কাঠের ওই নৌ-যানের ন্যূনতম দাম হবে সাড়ে ন’লক্ষ টাকা। ইস্পাতের তৈরি ৬০ আসনবিশিষ্ট নৌকার দাম হবে ১৪ লক্ষ টাকা। অন্য দিকে, ফাইবারের ৪০ আসনযুক্ত নৌকাগুলির প্রতিটির দাম পড়বে ১২ লক্ষ টাকা। ভুটভুটির মতো মোটরচালিত নয়। তবে লঞ্চের মতোই যান্ত্রিক এই নৌ-যানগুলি ডেক এবং ছাউনি ছাড়া হবে। ইতিমধ্যেই কেরল ও এ রাজ্যের কয়েকটি সংস্থা এই নৌকা তৈরি করতে রাজি হয়েছে।

চলতি বছরে এ রাজ্যে তেলেনিপাড়া-সহ কয়েকটি ঘাটে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে গিয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য যাত্রীর। এর পরেই নড়ে বসে রাজ্য সরকার। যার ফলশ্রুতিতে রাজ্য পরিবহণ দফতর এই সিদ্ধান্ত নেয়। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সকে দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাযুক্ত নৌ-যানের নকশাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। নতুন নৌকা কিনতে ভুটভুটি মালিকদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয় সে জন্য ‘জলধারা’ নামে একটি প্রকল্প তৈরি করে ফেলেছে পরিবহণ দফতর। তাতে ভর্তুকির পাশাপাশি ঋণের সুযোগও মিলবে।

Advertisement

অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘অনুমোদিত নকশায় তৈরি নৌকাগুলি কিনলে মালিকদের ইন্ল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের লাইসেন্স দেওয়া হবে। যন্ত্রচালিত নৌকাগুলি যাঁরা চালাবেন রাজ্য সরকার তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করবে।’’

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নদী পথে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’-এর মাধ্যমে ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ করে হাওড়ার সব ক’টি ঘাটের পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং নলকূপ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকা মালিকদের হাতে পর্যাপ্ত বয়া ও লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, নতুন যন্ত্রচালিত নৌকাগুলি চালানো শুরু হলে জলপথে নিরাপত্তা অনেকটাই বেড়ে যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement