—ফাইল চিত্র।
আগামী ১৫ জুন থেকে সরকারি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। বুধবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমস্ত স্তরের সরকারি অফিসার এবং কর্মীর ক্ষেত্রেই এই নিয়ম বলবৎ হবে। ১৫ জুন থেকে নবান্নে শুরু হবে এই পদ্ধতি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্য সরকারি দফতরগুলিতে চালু হবে এই পদ্ধতি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের দাবি, প্রশাসনের অন্দরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। অফিসে ঢোকা-বেরোনোর সময়ে হাজিরা খাতায় সই করার দিন শেষ। কার্ড পাঞ্চ করে ঢোকা-বেরোনোর পরে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিও পুরনো হয়ে গিয়েছে। এ বার রাজ্যের কর্মীদের হাজিরার হিসেব রাখতে তাঁদের ছবি তোলার জন্য উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রের ব্যবহার শুরু করার কথা জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই পদ্ধতির পোশাকি নাম ‘ফেস রেকগনিশন অ্যাটেন্ড্যেন্স সিস্টেম’। অর্থাৎ মুখের ছবির মাধ্যমে হবে হাজিরা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত ১১ মে শুভেন্দু নবান্নে গিয়েছিলেন। মন্ত্রীদের পাশাপাশি বৈঠক করেছিলেন পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও। এর পরেই সরকারি কর্মীদের অফিসে আসা ও বেরোনোর সময় নিয়ে কড়া ভাবে নিয়ম পালনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সমস্ত কর্মীদের অফিসে ঢোকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়া যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। এ বার সেই সময়বিধির উপর নজরদারির উদ্দেশ্যে সমস্ত সরকারি দফতরে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে আগেও চালু ছিল সরকারি অফিসে হাজিরার এই নিয়ম, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হত না বলে অভিযোগ। বুধবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে যে কর্মীরা দফতরে আসবেন তাঁদের নামে ‘লেট মার্ক’ পড়বে। আর ১১টা পেরিয়ে গেলেই কাটা যাবে সে দিনের হাজিরা! তেমনই বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়লে তা-ও আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা হবে।