(বাঁ দিকে) কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং বুলেট ট্রেনের প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে ‘বঞ্চনা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তোলে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। তবে বাজেট পেশের এক দিন পরেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়ে দিলেন, এ রাজ্যের রেল প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ নতুন কী কী পেতে চলেছে, তার খতিয়ানও দেন রেলমন্ত্রী।
অশ্বিনী জানান, পশ্চিমবঙ্গ প্রথম বুলেট ট্রেন পেতে চলেছে। শিলিগুড়ি থেকে ছাড়বে এই ট্রেন। সোজা পৌঁছোবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে। রবিবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শিলিগুড়ি এবং বারাণসীর মধ্যে হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা। সেই করিডর তৈরি হয়ে গেলেই ছুটবে বুলেট ট্রেন। শুধু তা-ই নয়, বারাণসী থেকে দিল্লির মধ্যে একটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয় বাজেটে। অর্থাৎ, এই দুই করিডর তৈরি হলে খুব কম সময়ের মধ্যেই শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছে যাওয়া যাবে। তবে একই ট্রেনে, না কি শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি যেতে বারাণসীতে ট্রেন পাল্টাতে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তাদের ধারণা, বুলেট ট্রেন চালু হলে তিন ঘণ্টারও কম সময়ে শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পৌঁছে যাওয়া যাবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য সুখবর। প্রথম বুলেট ট্রেন আসবে শিলিগুড়িতে। বারাণসী থেকে পটনা হয়ে শিলিগুড়ি যাবে ট্রেনটি।’’ তিনি এ-ও জানান, ভবিষ্যতে ওই রেল করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। শুধু তা-ই নয়, মেট্রোর মতো পশ্চিমবঙ্গে ট্রেনও চলবে মাটির তলা দিয়ে! সোমবার এমনই জানান অশ্বিনী। ৪০ কিলোমিটার ওই পথ পড়ছে শিলিগুড়ির কাছে। চিকেন্স নেকে। ওই পথ উত্তর ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবে।
রেল করিডর ছাড়াও মোদীর রাজ্য গুজরাতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে নয়া ফ্রেট করিডর গঠনের কথাও ঘোষণা করেছিলেন নির্মলা। তিনি জানান, হুগলির ডানকুনি থেকে পশ্চিমে গুজরাতের সুরতকে যুক্ত করবে সেই ফ্রেট করিডর। ওই বাজেটের পর মমতা অভিযোগ করেন, ‘‘ওরা (বিজেপি) বাংলায় হারবে। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না। ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা।” তবে সোমবার রেলমন্ত্রী জানান, এ বার পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেকর্ড বাজেট দেওয়া হয়েছে। অশ্বিনীর কথায়, ‘‘বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪, ২০৫ কোটি টাকা। নতুন ট্রেনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক ডজনের বেশি ট্রেন চালু হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ট্রেন পশ্চিমবঙ্গে চালানো হবে।’’