প্রতীকী ছবি।
বিরোধীরা দিশাহারা। সংশয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশও! — নির্ঘণ্ট যা হয়েছে, তাতে পঞ্চায়েত ভোট নির্বিঘ্নে হবে তো।
কারণ একাধিক। প্রথমত, কাল, সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই মনোনয়নপত্র জমা শুরু হবে, চলবে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ, আগামী ৯ দিনের মধ্যে প্রায় ৫৮ হাজার প্রার্থী খুঁজে বার করতে হবে বিরোধীদের। যা এক প্রকার অসম্ভব বলেই মনে করছে অপ্রস্তুত বিরোধী শিবির।
দ্বিতীয়ত, এ বার ভোট-পর্বের মেয়াদও ৬ দিন কমিয়ে এনেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কোনও নির্দিষ্ট আইন না থাকলেও বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে প্রথম দফার ভোটের মাঝে ৩৫ দিনের ফারাক রাখাই দস্তুর। এ বার সময়ের ব্যবধান ২৯ দিন। ফলে প্রচারের সময় কম মিলবে।
বিরোধী শিবিরের চিন্তা অবশ্য অন্য। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় বৃদ্ধি। অন্য বার, মনোনয়ন পরীক্ষার দু’দিনের মাথায় তা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য হয়। এ বার ব্যবধান ৫ দিন। বিরোধীদের আশঙ্কা, মাঝের এই সময়ে ভয় দেখিয়ে তাঁদের প্রার্থীদের নাম প্রত্যাহারে বাধ্য করবে তৃণমূল।
রাজ্যের এক প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারের মতে, ‘‘কমিশনের কাজ হল সকলের জন্য মনোনয়নের ব্যবস্থা করা এবং নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনা করা। নির্ঘণ্ট যা হয়েছে, তাতে বহু আসনে বিরোধীরা যেমন প্রার্থী দিতে পারবেন না, তেমনই বহু প্রার্থী চাপের মুখে নাম তুলে নিতে বাধ্য হবেন।’’
পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য পাল্টা বলেন, ‘‘নির্ঘণ্ট তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই। বিরোধীরা অর্বাচীনের মতো অভিযোগ করছে।’’
প্রশ্ন উঠেছে দফাওয়ারি বিভাজন নিয়েও। ২০১৩ সালে পাঁচ দফায় ভোট হয়েছিল। প্রতি দফার মাঝে অন্তত তিন দিন সময় ছিল। এ বার থাকছে মাত্র এক দিন। তার মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পুলিশ নিয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্র কর্তারা।
১ মে ১২ জেলার প্রায় ৪০ হাজার বুথে ভোট। দু’জন সশস্ত্র পুলিশ দিলেও লাগবে ৮০ হাজার পুলিশ। রাজ্যের হাতে সব মিলিয়ে আছে ৪৬ হাজার সশস্ত্র পুলিশ। তা হলে ভোট হবে কী করে? এক কর্তার বক্তব্য, ১ লাখ ৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার তো রয়েছে। যার অর্থ, প্রতি বুথে সশস্ত্র বাহিনী তো দূরের কথা, পুলিশও থাকবে না। সাড়ে তিন লাখ ভোটকর্মী পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন। নবান্ন বলছে, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে পঞ্চায়েত-পুরকর্মীদের কাজে লাগানো হয় না। পঞ্চায়েতে তাঁদের নেওয়া হবে। স্থায়ী-চুক্তিতে নিযুক্তদেরও কাজে লাগানো যেতে পারে।