রাম ছেড়ে উন্নয়ন মিছিলে তৃণমূল

রাম-নামে নেমে তৃণমূল বুঝতে পেরেছে এ কাজ তাঁদের নয়। তৃণমূলের ক্যাডারবাহিনী ‘মমতা ব্যানার্জী জিঁদাবাদ’ বলতে যতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, ‘জয় শ্রীরামে’ তাঁদের জিভের আড় সহজে কাটতে চায় না।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০১৮ ০৩:৫৩
Share:

রাম-হনুমান অনেক হল, এ বার ফেরো উন্নয়নে। চলতি রাজনৈতিক আবহে শেষ পর্যন্ত বোধোদয় হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের। আজ, শনিবার হনুমানজয়ন্তী কাটলেই গ্রামে-গ্রামে উন্নয়ন মিছিলে ফিরছে শাসক দল। আগামীকাল, রবিবার তা শুরু হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে। এর পর ধীরে ধীরে তা অন্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়বে। রামের ছবি ছেড়ে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘কন্যাশ্রী-রূপশ্রী’ তুলে ধরতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে শাসক দলের একাংশের দাবি।

Advertisement

বীরভূম, হাওড়ার দলীয় পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিমের কথায়, ‘‘রাম-হনুমান নিয়ে তো আর ভোটে লড়া যাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন-প্রকল্পের সুবিধা গ্রামের মানুষ কে কতটা পাচ্ছেন, তা বোঝানোটাই তো এ বার প্রধান কাজ। সব ব্লকে ব্লকে বারবার করে মিছিল করে উন্নয়নের কথাটাই বলতে হবে।’’

রাম-নামে নেমে তৃণমূল বুঝতে পেরেছে এ কাজ তাঁদের নয়। তৃণমূলের ক্যাডারবাহিনী ‘মমতা ব্যানার্জী জিঁদাবাদ’ বলতে যতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, ‘জয় শ্রীরামে’ তাঁদের জিভের আড় সহজে কাটতে চায় না। জোর করে গেরুয়া রঙ মাখতে গিয়ে যে ভাবে কাকিনাড়া, পুরুলিয়া, কান্দি, আসানসোলে গোলমাল ছড়িয়েছে তাতেও কিঞ্চিত রক্ষণাত্বক শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের কাছে এখন উন্নয়নের তত্ত্বে দলকে ফেরানোটাই সবচেয়ে জরুরি।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর মতে, ‘‘২০১৩ সালের পর থেকে মানুষ উন্নয়নের সমর্থনেই তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে। এ বারও তাই আমাদের অস্ত্র মমতাদির সেই উন্নয়নই। তাই উন্নয়ন-মিছিল বারবার করতে হচ্ছে। এই উন্নয়নের জোরেই আমরা জিতব।’’

তবে রাম-হনুমানে আফসোস করছেন না তৃণমূলের একাংশ। উত্তর ২৪ পরগনার পর্যবেক্ষক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সাফ কথা,‘‘রাম নবমী, হনুমান জয়ন্তী আমরা দাপিয়ে করেছি। এ বার ঝাঁপানো হবে উন্নয়নের জন্য।’’

উন্নয়ন মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর বা বর্ধমান, বীরভূমেও। প্রায় সব জেলায় পঞ্চায়েত সম্মেলন সেরে ফেলেছে তৃণমূল। রাজ্যের সব জেলা পরিষদ তাদের দখলে। সেই দখলদারি অব্যাহত রাখতে তাই রাম নয়, রাস্তা-জল-বিদ্যুৎই যে একমাত্র ভরসা তা বুঝেছেন তৃণমূল নেতারা। যা জেনে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ,‘‘সবার পেটে ঘি সহ্য হয় না। আরও একবার তা প্রমাণ হল।’’ পূর্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘‘দিদির উন্নয়নই ঘিয়ে-ভাতে রেখেছে রাজ্যের মানুষকে। রামনামে ভাত জোটে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement