Bhagwat mentions Bengal

বাংলায় পারলে দক্ষিণে নয় কেন! প্রতিকূলতা জয়ে পশ্চিমবঙ্গই ‘দৃষ্টান্ত’, সঙ্ঘের শিক্ষা সংগঠনের মঞ্চে বোঝালেন মোহন ভাগবত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় বাঁক হিসেবে দেখছে বিজেপির। ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের সর্বভারতীয় অধিবেশনে ভাগবতের মন্তব্য বুঝিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ সাফল্যের আখ্যান হিসেবে দেখছে আরএসএস-ও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৫:৫৪
Share:

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গের পালাবদল ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে উঠেছে আরএসএস-এর অন্দরে? রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শিক্ষা সংক্রান্ত সংগঠন ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের একটি সর্বভারতীয় বৈঠকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব‍্য তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে। বৈঠকে দক্ষিণের এক রাজ্যের প্রতিনিধি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কোনও কোনও রাজ্যে আরএসএস বা তার সহযোগী সংগঠনগুলির কাজের প্রসারের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাঁর কথার উত্তরে সরসঙ্ঘচালক ভাগবত টানেন পশ্চিমবঙ্গের কথা। প্রতিকূলতা পশ্চিমবঙ্গে যা ছিল, তামিলনাড়ুতে তার চেয়ে বেশি নয়—মন্তব্য করেন ভাগবত।

Advertisement

দিন দুয়েক আগে বেঙ্গালুরুতে শেষ হয়েছে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের একটি সর্বভারতীয় অধিবেশন। পাঁচ দিনের কর্মসূচিতে শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন সরসঙ্ঘচালক। প্রথমে তিনি একটি প্রশ্নোত্তরমূলক কথোপকথনে অংশ নেন। সেখানেই ভাগবতের মুখে প্রতিকূলতা জয় করার দৃষ্টান্ত হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নাম উঠে আসে।

ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল মূলত শিক্ষানীতি প্রণয়ন, শিক্ষাব‍্যবস্থার মানোন্নয়ন নিয়ে কাজ করে থাকে। বর্তমানে যে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) গোটা দেশে কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে, তার ৭০ শতাংশই ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের ভাবনায় অনুপ্রাণিত। এ হেন সংগঠনের সর্বভারতীয় অধিবেশনে শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মানের উন্নয়ন, শিক্ষার বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন নিয়ে প্রত্যাশিত ভাবেই বিশদ আলোচনা হয়েছে। ব্রিটিশ জমানায় মেকলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব‍্যবস্থার ধাঁচ বদলে ‘শিক্ষায় ভারতীয়ত্ব’ আনার পদ্ধতি-প্রকরণ ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে। অধিবেশনটিতে চর্চিত বিষয়গুলির রূপায়ণ কতটা সম্ভব, তা নিয়েও নানা মতামত উঠে এসেছে। তামিলনাড়ুর এক মহিলা প্রতিনিধি সে বিষয়ে সরাসরি ভাবগবতকে প্রশ্ন করেন। ওই প্রতিনিধির বক্তব্যকে তিনি যে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত মনে করছেন না, সরসঙ্ঘচালক তা প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দেন।

Advertisement

তামিলনাড়ুতে যে ধরনের রাজনীতি চলে এবং সেখানকার পরিস্থিতি যে রকম বিভাজিত, তাতে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের কাজ সে রাজ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যথেষ্ট কঠিন বলে ওই প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন। তা মোকাবিলার কৌশল জানতে চেয়েছিলেন। সরসঙ্ঘচালক উত্তরে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল ছিল। কিন্তু সেখানেও তো কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়েই সঙ্ঘের নানা কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় বলে ভাগবত মন্তব্য করেন। পরে সমাপন সত্রের ভাষণেও সরসঙ্ঘচালকের মুখে ফের প্রতিকূলতা-অনুকূলতার প্রসঙ্গ ফিরে আসে। তিনি বলেন, সঙ্ঘের কাজ বা ভারতীয় সমাজের কাজের জন‍্য আজকের ভারত যতটা অনুকূল, ততটা আগে কখনও ছিল না। এই পরিস্থিতিতেও যাঁরা হতাশার বা অপারগতার কথা বলেন, অতীতের নানা প্রতিকূলতার কথা তাঁদের মনে রাখা উচিত বলে ভাগবত মত প্রকাশ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়কে স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা বড় বাঁক হিসেবে দেখছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। তাই বঙ্গবিজয়ের পরে জয়োৎসব তথা উল্লাস শুধু পশ্চিমবঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গোটা দেশেই বিজেপি উচ্ছ্বাস দেখিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডলের সর্বভারতীয় অধিবেশনে ভাগবতের মন্তব্য বুঝিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গে এই সাফল্যকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হিসেবে দেখছে আরএসএস-ও। এ রাজ্যে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে আরএসএস-এর ভূমিকা কতটা, বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরএসএস এবং সহযোগী সংগঠনগুলি সব স্তরে কতখানি সক্রিয় হয়েছিল, রাজ‍্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্বয়ংসেবকরা নেপথ্যে থেকে কতটা পরিশ্রম করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা নানা মহলেই চলছে। সরসঙ্ঘচালক সে সব প্রসঙ্গে একেবারেই যাননি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পালাবদলকে যে এখনও ততটা প্রভাব না-থাকা অঞ্চলে উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে চায় সঙ্ঘ, ভাগবতের মন্তব্যে তা স্পষ্ট।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement