রাজ্যে রেল পুলিশেও এ বার বম্ব স্কোয়াড

Advertisement

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৩:১৫
Share:

প্রতীকী চিত্র।

দেশের কোনও জায়গায় জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য এলে প্রথমেই সতর্ক করা হয় সেখানকার রেল পুলিশকে। কারণ, জনবহুল স্টেশন বা ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে কম মাত্রার নাশকতা ঘটিয়েও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি করা যায়। অথচ পশ্চিমবঙ্গ রেল পুলিশের কোনও নিজস্ব বম্ব স্কোয়াড-ই এত দিন ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের টনক নড়েছে। রেল পুলিশের এলাকার নিরিখে রাজ্যের প্রধান চারটি জায়গায় তৈরি হচ্ছে চারটি বম্ব স্কোয়াড।

Advertisement

ইতিমধ্যেই হাওড়ায় রেল পুলিশের ওই বম্ব স্কোয়াড কাজ শুরু করে দিয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, নতুন বছরের গোড়াতেই কাজ শুরু করবে শিলিগুড়ি রেল পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। তার পর ধীরে ধীরে নিজস্ব বম্ব ডিটেকশন ও ডিসপোজাল স্কোয়াড পাবে শিয়ালদহ ও খড়্গপুর রেল পুলিশও। ২০০৬-এর জুলাই নাগাদ মুম্বইয়ে লোকাল ট্রেনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০০-রও বেশি মানুষ নিহত ও ৭০০-র উপর লোক আহত হন। তার পর ১০ বছরেরও বেশি সময় লেগে গেল এই রাজ্যে রেল পুলিশের নিজস্ব বম্ব স্কোয়াড তৈরি করতে।

এত দিন রেল পুলিশের এলাকায় অর্থাৎ বিভিন্ন স্টেশনে, রেল লাইন কিংবা সংলগ্ন তল্লাটে সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেলে ডাক পড়ত সিআইডি-র। শিয়ালদহ বা হাওড়া রেল পুলিশের এলাকা হলে ভবানী ভবন থেকে দল যেত। শিলিগু়ড়ি কিংবা খড়্গপুর রেল পুলিশের এলাকায় কিছু ঘটলে বম্ব স্কোয়াড যেত কাছের কোনও জেলা থেকে।

Advertisement

কিন্তু নবান্ন সূত্রের দাবি, রেল পুলিশের নিজস্ব বম্ব স্কোয়াড থাকলে এখন ওই সব জায়গায় বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত পোশাক, সরঞ্জাম ও কুকুর নিয়ে আরও দ্রুত পৌঁছতে পারবেন।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বম্ব স্কোয়াডের প্রতিটি ইউনিটে ছ’জন সদস্য থাকবেন। এক জন সাব- ইনস্পেক্টর, দু’জন এএসআই এবং চার জন কনস্টেবল। প্রত্যেকেই বিস্ফোরক শনাক্ত বা চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ব্যাপারে সেনা কিংবা ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি)-এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

নবান্ন সূত্রের খবর, রেল পুলিশের নিজস্ব চারটি বম্ব স্কোয়াড আসলে কিন্তু সিআইডি-র অধীনে থাকবে। ওই চারটি স্কোয়াডকেই নিয়ন্ত্রণ করবে স্টেট বম্ব ডেটা সেন্টার বা এসবিডিসি। যা সিআইডি-র অন্তর্ভুক্ত। ভবানী ভবন সূত্রের খবর, নতুন ইউনিট গঠনের জন্য বিদেশ থেকে কেনা হয়েছে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার আধুনিক সরঞ্জাম৷ আরও কিছু সরঞ্জাম কেনা বাকি। সেগুলি নতুন বছরের প্রথম দিকে চলে এলে শিয়ালদহ ও খড়্গপুরের ইউনিট চালু হয়ে যাবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement