West Bengal new CM 2026

‘পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিশ্বাস যেন না ভাঙে’! মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার পর বিজেপি নেতাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন শাহ

রাজ্যে বিজেপি-কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শাহ। সেই সঙ্গে দলের নেতাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১৮:০৫
Share:

নিউ টাউনের বৈঠকস্থলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার। ছবি: ভিডিয়ো থেকে।

নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে বিজেপি-কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দলের নেতাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শাহ জানিয়েছেন, যে ভরসা রাজ্যবাসী বিজেপির উপর রেখেছে, তা যেন বজায় থাকে। নেতাদের এমন কাজ করতে হবে, যাতে রাজ্যের মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ না হয়।

Advertisement

শাহ বলেন, ‘‘মমতাজির শাসনে এখানে ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেও আমাদের নেতাদের উপর ভরসা রেখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের যে বিজয় উপহার দিয়েছেন, তার জন্য তাঁদের কোটি কোটি ধন্যবাদ। আমি আমাদের নেতাদের বলতে চাই, যে আশা আপনাদের উপর জনতা রেখেছে, সেগুলি পূরণ করার সম্পূর্ণ চেষ্টা আপনারা করবেন। বিশ্বাস যেন ভঙ্গ না হয়। আমাদের নেতাদের এটাই কর্তব্য। বাংলার মানুষকে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠটুকু আমরা উজাড় করে দেব, এটা নিশ্চিত করতে হবে।’’

শুভেন্দুর ভবানীপুর জয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত শাহ। মমতাকে মমতার এলাকায় গিয়ে পরাজিত করার জন্য শুভেন্দুকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ভবানীপুরের জনতাকে মন থে‌কে ধন্যবাদ, অভিনন্দন জানাচ্ছি। এর আগেও শুভেন্দু নন্দীগ্রামে দিদিকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে দিদি বলতেন, ওঁদের এলাকায় লড়েছেন। এ বার তো দিদিকে দিদির এলাকাতেই হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।’’

Advertisement

পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের গুরুত্ব কতটা, তার বর্ণনাও দিয়েছেন শাহ। জানিয়েছেন, এর ফলে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপি সরকার এল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে তাঁর আদর্শের অনুসারী সরকার গঠন করা গেল। শাহের কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পতাকা ওড়ানো বাকি ছিল। শ্যামাপ্রসাদজি যেখানেই থাকুন, আজ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন নেতাদের খোলা মনে আশীর্বাদ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’’ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রসঙ্গে শাহ আরও বলেন, ‘‘২০১৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির খাতা খুলেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তার পর ২০১৬-তে আমরা তিনটি আসন পাই। ২০২১ সালে আসন বেড়ে হয় ৭৭। তার পর ২০২৬ সালে ২০৭টি আসন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এলাম। এই জয়ের জন্য ৩২১ জন বিজেপি কর্মী প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের কথা ভুলব না। কেরল আর পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের আর কোথাও ভোটে এমন হিংসার তাণ্ডব দেখিনি। নিহত সেই বিজেপি কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’’

শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতাদের জয়ের গড় ব্যবধান ২৮ হাজারের কাছাকাছি। ন’টি জেলায় তৃণমূল খাতা খুলতে পারেনি। তাঁর কথায়, ‘‘এমন প্রচণ্ড জনাদেশ আগে কখনও দেখিনি। তৃণমূল পুরো সাফ হয়ে গিয়েছে ন’টি জেলায়। সরকার কাজ করলে জনতার সমর্থন পায়। কিন্তু এখানে তো বিরোধীদের কথাই বলতে দেওয়া হত না। তাতেও এত সমর্থন!’’ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করেন শাহ। বলেন, ‘‘কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। শুধু তৃণমূল নয়, তার সঙ্গীরাও প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে এ রাজ্যে। স্বাধীনতার পর থেকে এটাই সর্বোচ্চ। কোনও ছাপ্পা বা কারচুপির অভিযোগ আসেনি। কোনও মৃত্যু নেই ভোটের সময়। কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’

কিছু কিছু আসনের জয়ী প্রার্থীদের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেন শাহ। পানিহাটিতে জয়ী আরজি করে নির্যাতিতার মা, আউশগ্রাম থেকে জয়ী পেশায় গৃহ পরিচারিকা কলিতা মাঝি, হিঙ্গলগঞ্জে জয়ী সন্দেশখালির রেখা পাত্রকে শাহ বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জয় প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সদস‍্য বিধায়ক হলেন।’’ জয়ের পর দলের প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন শাহ। জানান, অনুপ্রবেশকারীমুক্ত, সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, ‘‘সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে দেখানো আমাদের লক্ষ‍্য। বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত তা কাল ভাবে।’’ শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের ভরকেন্দ্র করে তোলার বার্তাও দিয়েছেন শাহ।

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘অনেক বছর হয়ে গেল কংগ্রেস কোনও ভোটে জেতেনি। জেতা অসম্ভব বুঝে এ বার ওরা দেশের ভোটপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চেষ্টা করছে। আমরা তো ২০১৪ থেকে ক্ষমতায় আছি। তার আগে এত বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, বিহার, সিকিম, ওড়িশায় কংগ্রেস কেন সরকার তৈরি করতে পারেনি? কংগ্রেসের আত্মচিন্তা করা দরকার।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement