West Bengal Cabinet Decisions 2026

চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু থেকে জনগণনা-নির্দেশ কার্যকর! কী কী সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তারই প্রতিফলন দেখা গেল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ১৫:২৭
Share:

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার সদস্যদের দু’পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করে দেওয়া হল। রাজ্যে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে বর্তমানে যে সামাজিক প্রকল্পগুলি চালু রয়েছে তার কোনওটিই বন্ধ হবে না। প্রতিটিই স্বচ্ছ ভাবে চলবে।

Advertisement

সোমবার দুপুর ১২টায় নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছিলেন শুভেন্দু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ছিলেন ওই বৈঠকে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তাঁর মন্ত্রিসভা চলবে সুশাসন এবং সুরক্ষার পথে। একই সঙ্গে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’ যে পথে এগোচ্ছে, পশ্চিমবাংলাতেও সেই পথেই এগোবে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার ‘ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি’ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে বাবাসাহেব অম্বেডকরের ‘বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’ ভিত্তিতে চলবে।”

এ বারের ভোটের প্রচার পর্বে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বার বার সরব হয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে, সেই আশ্বাসও দিয়েছিলেন বিজেপির নেতৃত্ব। এ বার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল শুভেন্দুর সরকার। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি দেওয়া হবে। শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল।” বস্তুত, এই জমি নিয়ে পূর্বতন রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিস্তর টানাপড়েন চলেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের।

Advertisement

রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপেরও বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তারই প্রতিফলন দেখা গেল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরির আবেদনের জন্য বয়ঃসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয় না— পূর্বতন সরকারের আমলে বহু বার এই অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের নামবদল ঘিরেই টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। এ বার বিজেপি সরকার গঠন হতেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে জুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, “মোদীজি বলেছিলেন, প্রথম ক্যাবিনেটে আমরা আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হব। আমরা আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় যুক্ত হলাম। এই সংক্রান্ত এগ্রিমেন্ট এবং অন্য বিষয়গুলি স্বাস্থ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টা এবং মুখ্যসচিব মিলিত ভাবে অতি দ্রুত সম্পন্ন করবেন।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা, পিএমশ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও, উজ্জ্বলা যোজনা-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও রাজ্যকে সক্রিয় ভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জেলাশাসকদের দ্রুত এই সংক্রান্ত আবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এত দিন পশ্চিমবঙ্গে সঠিক ভাবে কার্যকর হয়নি বলেও জানান শুভেন্দু। সেই বিএনএস-ও সোমবার থেকে এ রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অত্যন্ত অবৈধ ভাবে সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে আগের সিআরপিসি, আইপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।” প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসাবে রাজ্যে নিযুক্ত আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস, ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকদের নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় মন্ত্রিসভায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ওই আধিকারিকদের প্রসঙ্গে বলেন, “আগে কেউ কেন্দ্রীয় সরকারি ট্রেনিংয়ে যুক্ত হতেন না। এটা আগের মুখ্যমন্ত্রীর অলিখিত নির্দেশ ছিল। এ বিষয়ে আমরা অন্য রাজ্যে যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুসরণ করার জন্য মুখ্যসচিবকে মনোনীত করলাম।”

পাশাপাশি রাজ্যে মৃত্যুহীন, ভয়মুক্ত, অবাধ নির্বাচনের জন্য এ রাজ্যের ভোটার, নির্বাচন কমিশন, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভোটকর্মী, ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা পর্যবেক্ষক এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী-সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের আত্মবলিদানের মাধ্যমে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিজেপির সেই ৩২১ জন কর্মীর আত্মবলিদানকে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি। তাঁদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। তারা যেমন হত্যার বিচার আশা করে, তা আমরা দেব। তাদের সামাজিক এবং অন্য কল্যাণকর দায়দায়িত্ব আমরা, এই সরকার নিজেদের কাঁধে তুলে নিলাম।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছরে জুন মাসে কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা সংক্রান্ত একটি নির্দেশ পাঠিয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে। তিনি বলেন, “আজ প্রায় এক বছর হতে চলল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ফাইল ফেলে রেখেছিল। এগুলো এখনই প্রকাশ্যে আনার বিষয় নয়। কিন্তু যে লিখিত তথ্য আছে, তাতে এরা শুধু পশ্চিমবাংলার সঙ্গে নয়, দেশের সঙ্গে, দেশের সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এদের লক্ষ্য ছিল ভারত সরকার যাতে মহিলা সংরক্ষণ না করতে পারে। আজ আমরা এখনই জনগণনা সংক্রান্ত সার্কুলারকে কার্যকর করলাম।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সরকার তথ্য, নিয়মের উপরে চলে। সরকারি সিদ্ধান্ত হয় সংবিধানের কতগুলি বিষয়ের উপরে। এই সরকার ‘আমিত্বে’ বিশ্বাস করে না, ‘আমরা’-নীতিতে চলবে। সংবিধানকে গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করব। আমরা আশা করব, এই সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচকেরাও কোনও সমালোচনা করতে পারবেন না। এমন কোনও সুযোগ এই সরকার দেবে না, ভরসা রাখুন।” শুভেন্দু জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। ওই বৈঠকে আরজি করের ঘটনা-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, বেতন কমিশন, মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement