Usernames Feature of Whatsapp

ফোন নম্বর ছাড়া হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটিং! নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে কী বলছেন প্রবীণ আর জেন জ়ি-রা? কী মত তারকা নেটাগরিকদের

‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থা চালু হলে ফোন নম্বর ঢেকে রেখে বা শেয়ার না-করে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এই বছরের শেষ দিকে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩১
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফোন নম্বর ছাড়াই শুধু নাম ব্যবহার করে (ইউজ়ারনেম) হোয়াট্‌সঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে মেটা। এই ব্যবস্থা চালু হলে ফোন নম্বর ঢেকে রেখে বা শেয়ার না-করে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এই বছরের শেষ দিকে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হবে। নতুন এই ব্যবস্থা নিয়ে হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা কী ভাবছেন, তা জানতে চেয়েছিল আনন্দবাজার ডট কম। জ়েন জি-দের পাশাপাশি যোগাযোগ করা হয়েছিল তুলনায় প্রবীণ নেটাগরিকদের সঙ্গেও।

Advertisement

হোয়াট্‌সঅ্যাপের ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচার ঠিক কেমন হতে চলেছে, প্রবীণ নেটাগরিকদের অনেকের কাছেই তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই হাতেকলমে বিষয়টি না-বুঝে এখনই এই বিষয়ে মতামত জানাতে চাইছেন না তাঁদের অনেকেই। তবে জেন জ়ি-রা এই বিষয়ে নিজেদের মনোভাব সোচ্চারেই জানাচ্ছেন। কেউ মেটা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। কেউ কেউ আবার সাইবার জালিয়াতির আশঙ্কায় কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। হোয়াট্‌সঅ্যাপের নতুন ‘ফিচার’ নিয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন টলিউডের পরিচিত মুখেরাও।

এই প্রসঙ্গে অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কাজের সূত্রে আমাদের এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হয়, যাঁদের ফোন নম্বর না-দিলেও চলে। সে দিক থেকে দেখলে এই ব্যবস্থাটি বেশ ভাল বলেই মনে হচ্ছে।” তবে নতুন কোনও কিছু শুরু করার আগে সেটা সম্পর্কে খোঁজখবর করে নেওয়া দরকার। সে ক্ষেত্রে সরকারের মেটা কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে সবিস্তার রিপোর্ট চাওয়া উচিত বলেই মনে করেন বিক্রম।

Advertisement

সংবাদসংস্থা এএনআই এবং পিটিআই জানিয়েছে, কেন্দ্রের তরফে বুধবার হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে মেটাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই নোটিসে মেটাকে ৩ দিনের মধ্যে ‘ইউজ়ারনেম’ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আলোচনাপর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থা ভারতে চালু করা যাবে না। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত ‘ইউজ়ারনেম’ নিয়ে আইনি কাঠামো ও আইনের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করেছে কেন্দ্র। মেটা-প্রস্তাবিত নতুন ফিচারটি কোনও সঙ্কট ডেকে আনবে কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই সেটি ভারতে ব্যবহারে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

হোয়াট্‌সঅ্যাপের নতুন ফিচারকে ‘খুব একটা কাজের’ মনে করছেন না অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত। তাঁর মতে, নকল ইউজ়ারনেম ব্যবহার করে কেউ অন্য কাউকে মেসেজ করে বিরক্ত করতে পারেন। তা ছাড়া, অভিনেত্রীর বক্তব্য, যাঁদের সঙ্গে হোয়াট্‌সঅ্যাপে কাজের জন্য যোগাযোগ থাকে, তাঁদের কাছে এমনিতেই নম্বর থাকে। তাই সেটাকে আড়াল করার কী প্রয়োজন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্বস্তিকা।

‘আর্লি জেন জ়ি’-র প্রতিনিধি বছর উনত্রিশের ইভানা নাজ়ির এই হোয়াট্‌সঅ্যাপের এই ব্যবস্থায় খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, “যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফোন নম্বর ব্যবহার করা হলে অবশ্যই ভাল। কারণ তাতে আমার উল্টো দিকে থাকা ব্যক্তিটিকে চিহ্নিত করতে সুবিধা হয়। বিষয়টা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্যও মনে হয়।” যদিও কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন বছর চৌত্রিশের আইটি কর্মী পিয়ালি মাইতি। তাঁর কথায়, “বর্তমানে অধিকাংশ চ্যাটিং হোয়াট্‌সঅ্যাপ নির্ভর। যেমন জ়োম্যাটো, বিজ়নেস অ্যাড, প্রোমোশন ইত্যাদি। আর সেই জন্য অনেক অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। সকলের সঙ্গে মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে ভাল লাগে না। তাই ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচারটা এ ক্ষেত্রে কিছুটা ইনস্টাগ্রামের মতো কাজ করবে বলে মনে হয়। এ ক্ষেত্রে মন্দ হবে না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে।”

বছর চল্লিশের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ধ্রুবজ্যোতি ভুঁইয়া কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, “যা-ই করুক, আজকাল জালিয়াতি (স্ক্যাম) ঠেকানোটা অসম্ভব মনে হয়।” একই সঙ্গে ঠাট্টার সুরে তাঁর সংযোজন, “আজকাল মানুষজন বড্ড বেশি সৃজনশীল। ‘ইউজ়ারনেমে’ তাঁরা যে নাম রাখবেন, তা বোঝার জন্য অক্সফোর্ড ডিকশনারিও কম পড়ে যাবে।”

পেশায় চিকিৎসক ডাক্তার নির্মলেন্দু মাইতি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। বছর পঁয়ষট্টির এই চিকিৎসক বলেন, “আমরাও অনেক সময় হোয়াট্‌সঅ্যাপে রোগীদের সঙ্গে কথা বলি। আগে তো এই সমস্ত প্রযুক্তি ছিল না। ফলে ইউজ়ারের গোপনীয়তা রক্ষাই প্রাথমিক কাজ।”

এথিক্যাল হ্যাকিং এবং সাইবার অপরাধ দমনের সঙ্গে যুক্ত সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত মেটা-র। কারণ আমাদের দেশে ফোন নম্বর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফোন নম্বরের সঙ্গে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে আমার সরকারি নথিপত্রও যুক্ত। সেই ফোন নম্বর যত কম শেয়ার করা যায়, তত ভাল। সেই জায়গা থেকে ‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থা অনর্থক নম্বর শেয়ার করার ঝুঁকি কমায়।’’ ভারত সরকার মেটা-র এই পদ্ধতিকে কেন এখনও ছাড়পত্র দিচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সাম্যজিৎ বলেন, ‘‘এখনও আইনরক্ষকদের কাছে অপরাধী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে ফোন নম্বর একটা বড় হাতিয়ার। ফোন নম্বরের বদলে ইউজ়ারনেম থেকে কোনও অপরাধীকে শনাক্ত করে খুঁজে বার করা তুলনামূলক কঠিন কাজ। আবার নতুন প্রযুক্তিও প্রয়োজন। কারণ বহু ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর ব্যক্তি গোপনীয়তার স্বার্থে মেটা ফোন নম্বর নাও প্রকাশ্যে আনতে পারে। এটা আইনরক্ষকদের দিক থেকে একটা সমস্যার ব্যাপার।’’

সাম্যজিতের এই যুক্তি মেনে নিয়েছেন রাজ্য পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক। সেই সঙ্গে তিনি এই বলে সতর্ক করেছেন যে, নম্বরের বদলে কেবল ইউজ়ারনেম থাকলে, অন্যের নামে বা কোনও বড় সংস্থার নামে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করে জালিয়াতির সম্ভবনা বাড়বে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের ৫০ কোটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রযুক্তিগত ভাবে ততটা সাবলীল নন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা ভুয়ো আর আসল অ্যাকাউন্টের ফারাক কতটা ধরতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয়ী তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement