BJP Brigade

লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে ‘নীরব’ মোদী, নিরাশ মহিলারা

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসার আগেই চলে যাচ্ছেন কেন? প্রশ্ন শুনে কিছু ক্ষণের জন্য থমকালেন গড়বেতার বাসিন্দা এক দম্পতি। প্রৌঢ় বললেন, ‘‘অনেক দূর ফিরতে হবে।’’ আর তাঁর স্ত্রী বললেন, ‘‘বাসে শুনে নেব, মোদী কত টাকা মাসে বাড়াচ্ছেন।’’

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৮:২১
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

ব্রিগেড ময়দানের আকাশে তখনসবে দেখা গিয়েছে একটি হেলিকপ্টার। মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হল,‘‘সকলে হাত-টুপি-ছাতা নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।’’ পর ক্ষণেই বলা হল, ‘‘ওটা নয়। মাঝে আসা হেলিকপ্টারে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী আছেন।’’ কোনও মতে আকাশের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তে নাড়তে মাঠ ছেড়ে বড় রাস্তার দিকে এগোনোর জন্য স্ত্রীকে তাড়া দিচ্ছিলেন প্রৌঢ়।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসার আগেই চলে যাচ্ছেন কেন? প্রশ্ন শুনে কিছু ক্ষণের জন্য থমকালেন গড়বেতার বাসিন্দা এক দম্পতি। প্রৌঢ় বললেন, ‘‘অনেক দূর ফিরতে হবে।’’ আর তাঁর স্ত্রী বললেন, ‘‘বাসে শুনে নেব, মোদী কত টাকা মাসে বাড়াচ্ছেন।’’বিজেপির সভায় আসা ওই প্রৌঢ়া লক্ষ্মীর ভান্ডার পান মাসে ১৫০০ টাকা করে। কিন্তু এ বার বিজেপিরাজ্যে ক্ষমতায় এলে কত টাকা বাড়াবে, তা প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনতে পাওয়াই ছিল এ দিনের সভায় আসা মহিলাদের বড় অংশের মূল লক্ষ্য। যদিও সভা থেকে মহিলাদের ভাতা নিয়ে তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি প্রধানমন্ত্রী। তা হলে কি তাঁদের আশাভঙ্গ হল?

ব্রিগেড ময়দান থেকে ধর্মতলামুখী মহিলা দলের সদস্য কবিতা দাসের কথায়, ‘‘এখানে উনি বলবেন ভেবেছিলাম। কিন্তু না বললেই বা কী? দাদারা তো আগেই বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাসে দ্বিগুণ দেবে।’’ যদিও প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে মহিলাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি শোনার আশা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু যাঁরা তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন, তাঁরা বিজেপির সভায় কেন? প্রশ্ন শুনেই রেগে গেলেন বারাসতের টিনা পাল-সহ তাঁর সঙ্গীরা। সকলের সটান উত্তর, ‘‘টাকা কি ওরা নিজেদের ঘর থেকে দিচ্ছে নাকি? আমাদের টাকা, আমাদের দিচ্ছে। কিন্তু এই সরকারকে আর দরকার নেই।’’

যদিও সরকারি বা দলগত যে কোনও সভাতেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ তৃণমূলের নেতৃত্বের বক্তব্যে থাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের কথা। সেখানে বিধানসভা ভোটের বাদ্যি বাজারলগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এ নিয়ে ঘোষণা অন্য মাত্রা যোগ করত বলেও মত রয়েছে সভায় আসা এক শ্রেণির কর্মী-সমর্থকদের। রেড রোডের মুখে খাবারের প্যাকেট বিলি করা নেতা গোছের এক যুবকের আক্ষেপ, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে শুনলে মহিলারা আরও উৎসাহ পেতেন।যাক, আমাদেরই এখন বোঝাতে হবে।’’ তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে তখন ব্রিগেডের মূল সভাস্থলের কিছুটা দূরে গাছতলার ছায়ায় বসেছিলবড় একটি দল। তাতে থাকা মহিলা, পুরুষ সঙ্গীদের উদ্দেশে এক নেতার মন্তব্য, ‘‘এমন ভাবে বুথ আগলেবসে থাকতে হবে। তা হলেই না অনেক কিছু পাবি!’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন